রাতভর গাজায় আবারো হামলা ইসরায়েলিদের

ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের সংঘাত ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। সংঘাত কমার কোনো লক্ষণই পরিলক্ষিত হচ্ছে না। গাজায় স্থানীয় সময় আজ সোমবারও বেশ কয়েকটি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল বাহিনি। ইসরায়েলের শহরগুলোতে হামাসও রকেট হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে এসব হামলায় হতাহতের খবর জানা যায়নি এখন পর্যন্ত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, গাজার রাস্তা, ভবন, হামাসের প্রশিক্ষণ শিবির ও ঘরবাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনের বেশির ভাগ জায়গায় রাতভর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে এসব হামলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, গতকাল রোববার গভীর রাতে বীরসেবা ও আশকেলন শহরে গাজা থেকে রকেট হামলা চালানো হয়। এরপরই ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, যত দিন প্রয়োজন তত দিন হামলা চলবে। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার জন্য ইসরায়েলি জনগণকে অপেক্ষা করতে হবে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি ‘গভীরভাবে মর্মাহত’ হয়েছেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব সব পক্ষকে স্মরণ করিয়ে দিতে চান যে নির্বিচার বেসামরিক লোকজন ও সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

গত শনিবার ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় অবস্থিত ১২ তলা একটি ভবন হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। ওই ভবনে এপি ও আল-জাজিরার কার্যালয় ছিল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, আল-জালা নামে ওই ভবন তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। সেখানে হামাসের সামরিক বাহিনীর কার্যালয় রয়েছে। এ কারণে হামলার আগে তারা ওই ভবন থেকে মানুষকে সরে যেতে সতর্ক করেছিল। হামলার নিন্দা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘর্ষের শুরু হয় গত সপ্তাহে। জেরুজালেমের আল-আকসায় পবিত্র জুমাতুল বিদা আদায়কে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের ঘটনা। এর আগে এত বড় সংঘাতের ঘটনা কখনো ঘটেনি বলে দাবি বিশ্লেষকদের। খবর রয়টার্স।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password