তাবিজ ব্যবহার করা কি জায়েজ?

আমরা অনেকেই তাবিজ-কবচ ব্যবহার করে থাকেন। তাদের বিশ্বাস এসব ব্যবহারে বিপদ-আপদ, রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করা যায়। কিন্তু এগুলো ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েজ কিনা এ বিষয় বিবেচনা করেন না।যেকোনো ধরনের তাবিজ তো মোটেই নয়, বরং কোরআনের আয়াত লেখা তাবিজও ব্যবহার করা যাবে না। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তাবিজ ঝোলাল, সে ব্যক্তি কুফরি করল এবং শিরক করল।’

হযরত ইমরান বিন হুসাইন (রা.) বর্ণিত, একদা নবী করিম (সা.) এক ব্যক্তির হাতে তামার চুড়ি দেখে বললেন, এটা কি? তিনি বললেন, এটা অহেনার অংশ। (অহেনার অর্থ এক প্রকার হাড়, যা থেকে কেটে ছোট ছোট তাবিজ আকারে দেয়া হয়) নবী করিম (সা.) বললেন, এটা খুলে ফেল, কারণ এটা তোমার দূর্বলতা বাড়ানো ভিন্ন কিছুই করবে না। যদি এটা বাঁধা অবস্থায় তোমার মৃত্যু হয়, তবে কখনো তুমি সফল হবে না।’ (মুসনাদে আহমদ, হাকেম ও ইবনে মাজাহ)

হযরত উকবা বিন আমের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলকে (সা.) বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি তাবিজ লটকালো, আল্লাহ তাকে পূর্ণতা দেবেন না, আর যে কড়ি ব্যবহার করবে, আল্লাহ তাকে মঙ্গল দান করবেন না।’ (মুসনাদে আহমদ, হাকেম)

হযরত উকবা বিন আমের আল-জোহানি (রা.) বলেন, ‘একদা রাসুল (সা.) এর খেদমতে একদল লোক উপস্থিত হল। মহানবী (সা.) দলটির নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসুল! নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না? রাসুল (সা.)বললেন, তার সঙ্গে তাবিজ রয়েছে। অতঃপর তিনি স্বহস্তে তা ছিড়ে ফেললেন এবং তাকে বায়আত করলেন, আর বললেন, যে ব্যক্তি তাবিজ ব্যবহার করল সে শিরক করল।’ (মুসনাদে আহমদ, হাকেম)

একদা হযরত হুজায়ফা (রা.) এক ব্যক্তির হাতে জ্বরের একটি তাগা দেখতে পেয়ে তা কেটে ফেলেন। অতঃপর তিনি সুরা ইউসুফের ১০৬নং আয়াতটি তিলাওয়াত করেন, ‘তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তবে শিরক করা অবস্থায়।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির)

হযরত আবু বশির আনসারি (রা.) কোনও এক সফরে রাসুল (সা.) এর সঙ্গী ছিলেন। সে সফরে রাসুল (সা.) জনৈক ব্যক্তিকে এ নিদের্শ দিয়ে পাঠালেন, ‘কোনো উটের গলায় ধনুকের ছিলা অথবা বেল্ট রাখবে না, সব কেটে ফেলবে।’ (বুখারি, মুসলিম)

হযরত আবু ওয়াহহাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ঘোড়া বেঁধে রাখ, তার মাথায় ও ঘাড়ে হাত বুলিয়ে দাও এবং লাগাম পরিয়ে দাও। তবে ধনুকের ছিলা ঝুলিয়ো না।’ (সুনানে নাসায়ী)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এর স্ত্রী হযরত জয়নব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘একদিন আব্দুল্লাহ বাড়িতে এসে আমার গলায় তাগা দেখতে পান। তিনি বললেন, এটা কী? আমি বললাম, এটা পড়া তাগা। এতে আমার জন্য ঝাঁড়-ফুঁক দেয়া হয়েছে। তা নিয়ে তিনি কেটে ফেললেন এবং বললেন, আব্দুল্লাহর পরিবার শিরক থেকে মুক্ত।’ তিনি বলেন, আমি রাসুলকে (সা.) বলতে শুনেছি, ‘ঝাড়-ফুঁক, সাধারণ তাবিজ ও ভালোবাসা সৃষ্টির তাবিজ ব্যবহার করা নিঃসন্দেহে শিরক।’ (আহমদ, হাকেম, ইবনে মাজাহ)

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন