সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস পরিচালনার নির্দেশ

করোনার থাবায় এক বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকা দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। গুগল মিট ব্যবহার করে ক্লাস পরিচালনা করতে হবে৷

প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা, মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তা ও পিটিআই ইন্সট্রাক্টররা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় করে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন। ক্লাসের জন্য কন্টেন্ট ও পাঠ পরিকল্পনা সরবরাহ করা হবে। একই পাঠ পরিকল্পনা ব্যবহার করে সব প্রাথমিক বিদ্যালয় অনলাইন ক্লাস একযোগে চলবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গুগল মিট ব্যবহার করে ক্লাস করার বিষয়ে অরিয়েন্টেশন দেবেন শিক্ষকরা। সংসদ টিভি ও বেতারে প্রচারিত ক্লাসের সাথে অনলাইনেও ক্লাস চলবে শিক্ষার্থীদের। 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস নেয়ার নির্দেশ দিয়ে জারি করা আদেশে এসব তথ্য জানা গেছে। আদেশটি মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে৷ এতে অনলাইন ক্লাস পরিচালনার বিস্তারিত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আদেশ অধিদপ্তর বলছে, গুগল মিট (Google Meet) অনলাইন ক্লাসের প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হবে। কোন ক্লাস্টারে কোন শিক্ষক গুগল মিটের (Google Meet) বিষয়ে না জেনে থাকলে না হয়ে থাকলে সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষকদের এক দিনের ওরিয়েন্টেশন দিতে হবে।

প্রতিটি ক্লাস্টারে ১টি করে আইসিটি পুল গঠন করতে হবে। এতে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নেতৃত্বে ক্লাস্টারের অন্তর্গত বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা থাকবেন, যারা ইতোমধ্যে গুগল মিটে (Google Meet) এ কাজ করেছেন।

আইসিটি পুলের সদস্যরা ক্লাস্টারের যত বেশি সংখ্যক সম্ভব শিক্ষকদেরকে একদিনের ওরিয়েন্টেশন দিবেন। আইসিটি পুলের সদস্যরা এবং ইতোমধ্যে ওরিয়েন্টেড শিক্ষকরা সকল শিক্ষার্থী ও প্রয়োজনে তাদের অভিভাবকদেরকে (যাদের স্মার্ট ডিভাইস আছে) গুগল মিটে ক্লাসের বিষয়ে ওরিয়েন্টেড করবেন।

অধিদপ্তর আরও বলছে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট, পিটিআই ইন্সট্রাক্টর (কম্পিউটার সাইন্স), উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও ইউআরসির ইন্সট্রাক্টরদের নিয়ে জেলা পর্যায়ে একটি কমিটি থাকবে যারা ক্লাস্টার পর্যায়ে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন। বিভাগীয় উপ-পরিচালক তার বিভাগের সার্বিক দায়িত্বে থাকবেন।

অনলাইম ক্লাসের জন্য ডাটা সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা বিদ্যালয়ের স্লিপ ফান্ড থেকে নির্বাহ করতে হবে। বিষয়টি জানিয়ে অধিদপ্তর আরও বলেছে, বর্তমানে দেশের সকল বিদ্যালয়ে (যেখানে ইন্টারনেট সুবিধা আছে) ডাটা সরবরাহের জন্য উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন ফোর জি (4G) ডাটা সরবরাহ নিশ্চিতকরণের কাজ চলছে।

এটি চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে অনলাইন পাঠদানকারী শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের স্লিপ ফান্ড থেকে নীতিমালা অনুযায়ী ডাটা সংগ্রহ করবেন। পিটিআই ইন্সট্রাক্টর (কম্পিউটার সায়েন্স) তার জেলার ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবেন। ক্লাস্টারের আইসিটি পুল সদস্যরা প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য তার সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করবেন।

অনলাইন ক্লাসের কন্টেন্টগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহ করা হবে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে দেয়া একই পাঠ পরিকল্পনা (Lesson Plan) অনুসরণ করে একযোগে সারা দেশে অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

অনলাইন ক্লাসের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে অধিদপ্তর জানিয়েছে, সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বাংলাদেশ বেতার ও কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে চলমান 'ঘরে বসে শিখি' পাঠ সম্প্রচারের সময়টুকু বাদ দিয়ে অনলাইন পাঠদানের সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ক্যাচমেন্ট এরিয়ার সব শিক্ষার্থীদের শিক্ষক প্রতি ভাগ করে নেবেন। শিক্ষকরা প্রতিজন শিক্ষার্থীর সাথে মোবাইল ফোনে নিয়মিতভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে শিক্ষার্থী পাঠ অগ্রগতির খোজ খবর নিবেন। সংশ্লিষ্ট অনলাইন পাঠদানকারী শিক্ষকের কাছ থেকে মূল্যায়ন প্রদিবেদন সংগ্রহ এবং আবশ্যিকভাবে রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে প্রধান শিক্ষকদের।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন