গাজীপুরে জিনের ভয় দেখিয়ে টানা ১৫ দিন শিশুকে বলাৎকার

জিনের ভয় দেখিয়ে টানা ১৫ দিন ৯ বছরের এক শিশুকে বলৎকার করে আসছিল শাহাদাৎ হোসেন নামে মসজিদের সহকারী এক মুয়াজ্জিন। শিশুটির পরিবার বিষয়টি জানার পর তারা কাউন্সিলর ও স্থানীয় ব্যক্তিদের জানান।

পরে সালিশের মাধ্যমে অপরাধী শাহাদাতকে মাটিতে থুথু ফেলে মুখ দিয়ে চেটে তোলা এবং ২০ বার কান ধরে উঠবস করার পর গ্রাম থেকে চলে যাওয়ার হুকুম দেয় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তুমলিয়া গ্রামে। 

অভিযুক্ত শাহাদাত উপজেলার তুমলিয়া গ্রামের মেজবাহ উদ্দিনের ছেলে। সে পাশের গ্রাম দুবার্টি আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী ও তুমলিয়া জামে মসজিদের সহকারী মুয়াজ্জিনের কাজ করতো। নির্যাতনের শিকার শিশুটি স্থানীয় একটি মাদরাসায় ৫ম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত। 

সোমবার সন্ধ্যায় বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান নির্যাতনের শিকার ওই শিশুর পিতা। তিনি জানান, শাহাদাত আরবি পড়তে জানতো, তাই তাকে বলেছিলাম আমার বাড়িতে এসে আরবি পড়ানোর জন্য। তবে সে বাড়িতে এসে পড়াতে পারবে না বলে জানায় এবং তার বাড়িতে সন্ধ্যার পর পাঠাতে বলে। কথামতো তার ছেলেকে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পাঠানো হতো শাহাদাতের বাড়িতে। তার ছেলেসহ আরো ১০/১৫ জন আরবি পড়তো শাহাদাতের কাছে। শাহাদাতের বাড়ির পাশে তার চাচার বাসার ২য় তলায় সবাইকে আরবি পড়াতো। গত ১ সপ্তাহ আগে তার ছেলে আরবি পড়তে যেতে অনিহা প্রকাশ করে এবং বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। ওইদিন পড়তে যেতে দেরি হওয়ায় বাড়িতে এসে খোঁজ নেয় শাহাদাত। পরে তার সঙ্গে পাঠানোর চেষ্টা করলে ছেলে কান্নাকাটি করে। এ সময় পরিবারের কাছে মূল ঘটনা খুলে বলে। 

ছেলের বরাত দিয়ে তিনি আরো জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা বাজলে অন্য ছেলেদের ছুটি দিয়ে দিতো শাহাদাত। পরে দু’তলার রুমে নিয়ে আটকে দিতো এবং জিনের ভয় দেখিয়ে তার ছেলেকে বলৎকার করতো। এ ঘটনা কাউকে বললে তার সঙ্গে থাকা জিন শিশুটির ক্ষতি করবে বলেও ভয় দেখাতো শাহাদাত।

বিষয়টি কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইব্রাহিম মোল্লা ওরফে চান্দু মোল্লা এবং ওই ওয়ার্ডের নব নির্বাচিত কাউন্সিলর আফছার আহমেদসহ স্থানীয়দের জানানো হয়। তারা ১০/১৫ দিন আগে সালিশ বসিয়ে শাহাদাতকে মারধর করে। বিচারে তিনি সন্তুষ্ট না হওয়ায় তিনি গাজীপুর এসপি’র কাছে যাওয়ার ভয় দেখান। পরে রোববার (৪ এপ্রিল) দুপুরের দিকে আবার সালিশ বসায়। এতে শাহাদাকে বিচারকরা মাটিতে থুথু ফেলে চেটে তুলতে বলে ও ২০ বার কান ধরে উঠবস করায় এবং তাকে গ্রামছাড়া হতে বলে। তবে তিনি ওই কাউন্সিলরদের কথায় এবং নিজের সম্মানহানির কথা চিন্তা করে থানায় যাননি।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইব্রাহিম মোল্লা ওরফে চান্দু মোল্লা জানান, এর আগেও শাহাদাত জিনের ভয় দেখিয়ে পানি পড়া দিয়ে স্থানীয়দের থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে। এখন আবার এ ঘটনা ঘটালো। টাকা-পয়সা খরচ হবে বলে তাদেরকে থানা-পুলিশ যেতে নিরুৎসাহিত করেছি। তাছাড়া আমার বয়স হয়েছে তাই নতুন কাউন্সিলর দায়িত্ব নিয়েছে বিচার করার জন্য তাই আমি আর কিছু বলিনি। তবে আপনারদের (সাংবাদিক) পক্ষে যদি কিছু করার থাকে তাহলে সহযোগিতা করেন। এটার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া দরকার। 

নব নির্বাচিত কাউন্সিলর আফছার আহমেদ জানান, আসলে বিষয়টি বড় করে দেখলে অনেক কিছু। আমরা গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে তার বিচার করে দিয়েছি। একবার বিচার করার পর নির্যাতনের শিকার পরিবার সন্তুষ্ট না হওয়ায় দু’বার বিচার করেছি। তাছাড়া নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাবা থানা-পুলিশ না করে আমাকে বিচার করে দিতে বলেছিল। আর সালিশের সময় শুধু আমি না কাউন্সিলর চান্দু মোল্লাসহ অনেকেই ছিল।

কালীগঞ্জ থানার ওসি একেএম মিজানুল হক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। যতদূর জানি বিষয়টি নিয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ দিলে বিষয়টির ব্যাপারে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান তিনি।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন