গোয়েন্দারা হেফাজতের অর্থদাতাদের খুঁজছেন

হেফাজতে ইসলামের নাশকতা কর্মকাণ্ডে অর্থের জোগানদাতাদের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবিদের সংখ্যা অনুযায়ী ৩১৩ জনের অর্থদাতা দল তৈরি করে সংগঠনটি। দাতাদের অনেকেই হেফাজতের গোপন উদ্দেশ্য সম্পর্কে না জেনেই অর্থ দিয়ে আসছেন। আবার অনেকেই তাদের আসল উদ্দেশ্য জেনেই সহায়তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এসব অর্থদাতার বিস্তারিত পরিচয় এবং অর্থের উৎস খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

এদিকে ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়া ২১ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো মিলিয়ে যাচাই করছেন তদন্তকারীরা। গতকাল বুধবার পর্যন্ত মামুনুল হকসহ ১৫ জনকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান তাঁর বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, কারা ফিন্যান্স করে সেগুলো নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। কিছু কিছু উপাদান পাচ্ছি। আরো কিছুদিন তদন্তের পর এ বিষয়ে অ্যানাউন্স করব।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, হেফাজতে ইসলামের অর্থের জোগানদাতা আছেন ৩১৩ জন—আমরা এমন তথ্য পেয়েছি। এখন এই অর্থদাতাদের পরিচয় শনাক্ত করে তাঁদের অর্থের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামুনুল হকসহ কিছু নেতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অনেক টাকার লেনদেন পাওয়া গেছে।

ডিবি সূত্র জানায়, হেফাজত নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবিদের সংখ্যার হিসাবে ৩১৩ জন ডোনার বা অর্থদাতা তৈরি করা হয়েছে। ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজে দান করা পুণ্য এমন বক্তব্য দিয়ে তাঁদের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহী করা হয়। দেশের বাইরেও বেশ কয়েকজন অর্থদাতা আছেন। তাঁদের দেওয়া টাকায় হেফাজত রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র, নাশকতা বা অন্য কোনো কাজে ব্যয় করছে এসব বিষয় নিয়ে অর্থদাতাদের অনেকের মাথা ব্যথা নেই। আবার কেউ কেউ পরিকল্পনার ব্যাপারে জানেন। তাঁদের অনেকে হেফাজতের সক্রিয় কর্মী।

গতকাল পর্যন্ত কয়েকজন অর্থদাতার নামের তালিকা করেছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে। সূত্র মতে, রিমান্ডে থাকা মামুনুলসহ নেতারা কর্মসূচির ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিচ্ছেন। তাঁদের তথ্যগুলো মিলিয়ে বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি জব্দ করা মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষায় যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে গতকাল ডিবি পুলিশ হেফাজতে ইসলামের আরো দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের নিয়ে ঢাকায় গ্রেপ্তারকৃত নেতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আক্তার আরো বলেন, ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিলে কারা বক্তব্য দেবেন, তা নির্ধারণ করতে হেফাজতের কয়েকজন নেতা মিলে একটি বোর্ড গঠন করেছেন। এই বোর্ডের উপদেষ্টা হলেন মাওলানা মামুনুল হক। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুল জানিয়েছেন, ওয়াজ মাহফিলে কারা বক্তব্য দেবেন তা ওই বোর্ডের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। মামুনুল ওই বোর্ডের উদেষ্টা হিসেবে বক্তাদের তালিকায় একেকটি মাহফিলের জন্য এক বা একাধি বক্তা নির্ধারণ করে দিতেন, যাঁদের কাজ ছিল উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া। ডিবি সূত্র জানায়, আর্থিক বিষয় অনুসন্ধানে কিছু তথ্য পাওয়া গেলে নাশকতার কাজে অর্থসংস্থানের অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হতে পারে। এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করবে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)

দুই নেতা গ্রেপ্তার : ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডিসি আব্দুল আহাদ জানান, ২০১৩ সালের নাশকতার মামলায় গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভাটারার ওয়াসা রোড এলাকা থেকে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুফতি হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) ইফতেখারুল ইসলাম জানান, গতকাল বিকেল ৪টার দিকে ডেমরা থেকে ঢাকা মহানগর ১ নম্বর জোনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি ফয়সাল মাহমুদ হাবিবীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবির মিরপুর বিভাগ।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন