ভাঙতে হবে লজ্জা ও অজ্ঞতা জরায়ুমুখের ক্যান্সার রোধে

জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রধান কারণ হচ্ছে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) সংক্রমণ। জরায়ুমুখ ক্যান্সার বা জরায়ুর ক্যান্সার নারীদের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাধি এবং জরায়ুমুখ ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী নারীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। জরায়ুমুখ ক্যান্সার ১৫-৪৫ বছর বয়সের নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, কিন্তু ক্যান্সারের লক্ষণ প্রকাশের প্রায় ২ থেকে ২০ বছর আগেই একজন নারী এ রোগের ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হন।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি) ২০১২-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারাবিশ্বে প্রতিবছর ৫ লাখ ২৮ হাজার নারী এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। মৃত্যুবরণ করেন ২ লাখ ৬৬ হাজার। এর মধ্যে বেশিরভাগ রোগী আমাদের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলোর। বিশ্বে নারীদের ক্যান্সারের তালিকায় সার্ভিকাল ক্যান্সারের স্থান চতুর্থ। আর সার্বিকভাবে এর স্থান সপ্তম। আইএআরসির হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ১১ হাজার ৯৫৬ জন আর মারা যান ৬ হাজার ৫৮২ জন। অন্যদিকে, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের সর্বশেষ প্রকাশিত ২০১৪ সালে হাসপাতালভিত্তিক ক্যান্সার নিবন্ধন প্রতিবেদন অনুযায়ী সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের অবস্থান দ্বিতীয় (১৭.৯ শতাংশ) এবং প্রথম স্তন ক্যান্সার (২৭.৪ শতাংশ)। সহজভাবে বললে, প্রতি পাঁচজন নারীর একজন সার্ভিক্যাল ক্যান্সারে ভুগছেন।

গবেষণায় উঠে আসে, জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে কতগুলো আর্থসামাজিক এবং কিছু ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল বা স্বল্পোন্নত দেশের বেলায় মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা বেশিরভাগই একটু নিম্ন পর্যায়ের থাকে বলে এসব দেশে বাল্যবিবাহ খুব সাধারণ একটি ব্যাপার। খুব অল্প বয়সে যদি মেয়েদের বিয়ে হয় এবং ঘন ঘন সন্তান হয় তাহলে জরায়ুমুখের ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এগুলো জরায়ুমুখের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। এর সাথে রয়েছে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব। বিশেষ করে মাসিকের সময় যদি জীবাণুমুক্ত পরিবেশ বজায় না থাকে, তবে সমস্যা হয়। অপুষ্টি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে অন্য কারণগুলোকে উৎসাহিত করে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা। আমাদের দেশে এ সমস্যাটি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। তবে পশ্চিমা বিশ্বে এই হারটা অনেক বেশি।

জরায়ুমুখের ক্যান্সার সম্পর্কে চিকিৎসকরা বলেন, আমাদের দেশের নারীদের আরো সচেতন হতে হবে। আমাদের সঙ্কোচের বিহ্বলতা কমাতে হবে। আমাদের নরীরা লজ্জায় মুখ ঢেকে শরীরে রোগ পুষতে থাকেন, শেষমেষ আমাদের কাছে যখন আসেন তখন আর করার কিছু থাকে না।

জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়

বাল্যবিবাহ জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রধান কারণ। কাজেই কন্যাসন্তানকে অল্প বয়সে বিয়ে না দেওয়া। তাকে ঝুঁকির মধ্যে না ফেলা। এরপর অল্প বয়সে বাচ্চা না নেওয়া, বেশি সন্তান না নেওয়া- এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার কথা চিকিৎসককে বলতে হবে। নারীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। এটি প্রতিরোধের জন্য টিকা আবিষ্কার হয়েছে। সেই ভ্যাকসিন আমাদের দেশে পাওয়া যায়। সরকার চেষ্টা করছে, ইপিআইর মধ্যে বিষয়টিকে নিয়ে আসার জন্য।

 

মন্তব্যসমূহ (০)


লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন