অ্যানাকোনডার লেজ ধরে টান

হাড়হিম করা ভিডিয়ো বললেও কম বলা হবে। এক দল পর্যটক জল থেকে এক বিরাট অ্যানাকোনডাকে টেনে তোলার চেষ্টা করছে। ভিডিয়োটি বহু পুরনো। ২০১৪ সালে তোলা। তবে নতুন করে আচমকাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সেটি। ব্রাজিলের এক নদীতে বোটে চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তিন জন। সেখানেই একটি দৈত্যাকার সাপকে দেখতে পান তাঁরা। আর তার পরই সেটিকে টেনে তোলার জন্য চেষ্টা করেন পর্যটকেরা।

মনে করা হচ্ছে, অ্যানাকোনডাটি প্রায় ১৭ ফুট লম্বা ছিল ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে সান্তামারিয়া নদীতে ভেসে বেড়াচ্ছিল সেটি। সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলেন সারলেই অলিভেরা, তাঁর স্বামী বেথিনহো বোরজেস এবং বন্ধু রডরিগো সান্তোস। সেখানেই তাঁদের বোটের একেবারে সামনে চলে এসেছিল অ্যানাকোনডাটি। আর রডরিগেজ সেটিকে ধরে ফেলেছিল। তার লেজটি ধরে টান দিয়ে বোটের দিকে নিয়ে এসেছিল রডরিগেজ।

সেটিকে ধরে ভিডিয়ো করছিলেন সারলেই অলিভেরা। তবে একেবারে সামনে চলে আসার পর সেটি ঝাপটা দিতে শুরু করে। এবং নিজের প্রাণ বাঁচাতে একেবারে হিংস্র হয়ে উঠেছিল সাপটি। তখনই সারলেই অলিভেরার মুখে শোনা যায়, 'ছেড়ে দাও! হে ঈশ্বর'। তবে রডরিগেজ অনেকবার অ্যানাকোনডার লেজটি ধরে টান দিতে থাকেন। কিন্তু তাঁরা আসলে কী করতে চাইছিলেন তা কেউই বুঝতে পারেননি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে কেউ এই ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন শেষ দু-তিনদিনের মধ্যে। আর তাতেই ফের ভাইরাল হয়েছে এই ভয়ংকর ভিডিয়ো। জানা গিয়েছে, এই গ্রুপটির ভিডিয়ো সেই সময় ভাইরাল হওয়ার পর পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ তাঁদের জরিমানা করেছিল। প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ৬০০ ডলার করে নেওয়া হয়েছিল।

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে বিশেষত আমাজন জঙ্গলে অ্যানাকোনডার বাস। বিভিন্ন স্তন্যপায়ী যেমন -হরিণ,ক্যাপিবারা, টাপির ,কেইমান এদের প্রধান খাদ্য। এমনকী এরা জাগুয়ার পর্যন্ত শিকার করে। ছোট অ্যানাকোনডা পাখি, মাছ, গিরগিটি,কচ্ছপ খেয়ে বেঁচে থাকে। এরা জীবিত প্রজাতির মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে ভারী সরীসৃপ। এদের ওজন সর্বোচ্চ ২০০ কিলোগ্রাম হতে পারে। সাধারণত পূর্ণবয়স্ক সাপ এর ওজন ১০০ কেজির চেয়ে বেশি হয়। এরা সাধারণত ৪-৬ মিটার (১৩-২০ ফুট) লম্বা হয়। তবে ৯ মিটার (২৮ ফুট) লম্বা এনাকন্ডার কথাও শোনা গেছে। স্ত্রী সাপ পুরুষ দের তুলনায় লম্বা ও ভারি হয়।

এরা নির্বিষ। এরা চমৎকার সাঁতারু। এরা জলে ডাঙার কাছে ওৎ পেতে থাকে। যখন শিকার আসে তখন এরা শিকারকে কামড়ে পেচিয়ে ধরে। শিকারের মৃত্যু না হওয়ার পর্যন্ত, এরা শিকারকে ছাড়ে না। শ্বাসকষ্ট ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ফলে শিকার মারা যায়।

মন্তব্যসমূহ (০)


লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন