শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার
স্কুলজীবনের পাঠ চুকিয়ে কর্মব্যস্ত পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিলেন ৩৬ বছর আগে। সময়ের স্রোতে কারও চুলে পাক ধরেছে, কেউ হয়েছেন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, কেউ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আবার কেউ দূর প্রবাসে যাপন করছেন যান্ত্রিক জীবন। কিন্তু আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি, ২০২৬) ঢাকার দোহার উপজেলার বাহ্রা হাবিলউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সব পরিচয় ছাপিয়ে তারা হয়ে উঠেছিলেন কেবলই নব্বই দশকের সেই প্রাণোচ্ছল কিশোর।
দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার ২৭টি বিদ্যালয়ের এসএসসি, ১৯৯০ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই ‘বন্ধুত্বের মিলনমেলা’ রূপ নিয়েছিল এক বিশাল আনন্দ উৎসবে। সকাল থেকেই বাহ্রা হাবিলউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে নব্বই দশকের সেই চিরচেনা হাসাহাসি আর আড্ডায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ এবং প্রয়াত বন্ধুদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শুরু হয় জমজমাট স্মৃতিচারণ পর্ব। পুরোনো দিনের দুষ্টুমি, প্রিয় শিক্ষকদের শাসন আর টিফিনের ভাগাভাগি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অনেককে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর একে অপরকে কাছে পেয়ে বন্ধুরা মেতে ওঠেন সেলফি আর কুশল বিনিময়ের হুল্লোড়ে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১ আসনের প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক উপস্থিত হয়ে আয়োজনের জৌলুস আরও বাড়িয়ে দেন। তিনিও শিক্ষার্থীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের এই মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। দিনভর আয়োজনে ছিল নব্বই দশকের জনপ্রিয় সব গানের মিউজিক্যাল পারফরম্যান্স। স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি বন্ধুরা নিজেরাও কৌতুক ও কবিতা পাঠে অংশ নেন। দুপুরে সবাই মিলে একসাথে ঐতিহ্যবাহী প্রীতিভোজে অংশ নেওয়ার পর বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন খেলাধুলা ও কুইজ প্রতিযোগিতা।
আয়োজক কমিটির প্রতিনিধিরা বলেন, যান্ত্রিক ও ব্যস্ত জীবনে আমরা সবাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম। এই মিলনমেলার মূল লক্ষ্য ছিল সব বন্ধুকে এক সুতোয় গাঁথা এবং বিপদে-আপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করা। ২৭টি স্কুলের বন্ধুদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের আয়োজনকে সার্থক করেছে।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী বন্ধুদের মাঝে শুভেচ্ছা উপহার বিতরণ করা হয়। পরিশেষে, আগামীতে আরও বড়ো পরিসরে এবং সামাজিক সেবামূলক কাজের মাধ্যমে এই বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট রাখার প্রত্যয় নিয়ে দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন