অবশেষে সেই অদম্য পিতা ৮ দিন পর মেয়েকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরলেন

অবশেষে  সেই অদম্য পিতা ৮ দিন পর মেয়েকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরলেন

সেই অদম্য পিতা তারেক ইসলাম (৩৪) ৮ দিন পর অসুস্থ ৭ মাস বয়সী শিশু জান্নাতের চিকিৎসা শেষে রোববার দুপুরে একটি পিকআপভ্যানে ঠাকুরগাঁও ফিরে গেছেন। এ সময় তার ও স্ত্রী সুলতানা বেগমের চোখেমুখে ছিল সন্তানকে সুস্থ করে তোলার আনন্দের হাসি। তারা যাওয়ার আগে রংপুর জেলা প্রশাসকসহ যারা তার সন্তানের চিকিৎসার জন্য হাত বাড়িয়েছেন তাদের প্রতি ও যেসব গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার করে তাকে সহযোগিতা করেছেন তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহফুজুল হক। তিনি জানান, রোববার বেলা ১১টার দিকে ওই শিশুটির সুস্থতার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। পেটের মধ্যে নাড়ি পেঁচিয়ে যাওয়ায় শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তিনি আরও  বলেন, গত ১৯ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টায় শিশু জান্নাতের অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর ৭ দিন হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল শিশুটিকে। পেটের মধ্যে নাড়ি পেঁচিয়ে যাওয়ায় শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।

বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল কন্যাসন্তানের জীবন বাঁচাতে ঠাকুরগাঁও থেকে ১১০ কিলোমিটার পথ ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে ৯ ঘণ্টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন তারেক ইসলাম ও তার স্ত্রী সুলতানা বেগম। অভাবী রিকশাচালক পিতার ঘরে কোনো আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় তিনি করোনা পরিস্থিতির কারণে লকডাউন চলায় অ্যাম্বুলেন্স খরচ জোগাতে পারেননি। তাই তার এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে নিজের জীবিকার বাহন রিকশা চালিয়ে। এই পথ পাড়ি দেয়ার মানবিক গল্প হার মানিয়েছে সমস্ত মানবিকতাকে। 

এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হলে সেই শিশু জান্নাতের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ের জন্য হাত বাড়িয়েছেন রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান স্বপ্ন নামে একটি সুপারশপ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উই ফর দেমসহ বিভিন্ন সংগঠন, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। জান্নাতের বাবা বলেন, শূন্যহাতে বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলাম। আমার বাচ্চার অপারেশন করাতে এক টাকাও নিজের খরচ করতে হয়নি। এখন বাচ্চা সুস্থ হয়েছে। বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমার বাচ্চাকে নিয়ে সংবাদ প্রচার করার পর দেশ-বিদেশ থেকে যত টাকা অনুদান পেয়েছি, বাচ্চার ভবিষ্যতের জন্য সেই টাকা দিয়ে জমিজমা ক্রয় করব। জান্নাতের মা সুলতানা বেগম বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এখন খুব ভালো লাগছে। আমার মেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেছে। সবার সহযোগিতা না পেলে হয়তো অপারেশন করতে পারতাম না। সবাই এগিয়ে এসেছে বলেই সম্ভব হয়েছে। আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। সবাই দোয়া করবেন, যাতে ওর ভবিষ্যত সুন্দর হয়।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password