আপনার অ্যাসিডিটির সমস্যা দূর করতে করণীয় কাজ

আপনার অ্যাসিডিটির সমস্যা দূর করতে করণীয় কাজ

অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেননি এরকম মানুষ হয়ত খুঁজেও পাওয়া যাবে না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, ‘হাইপারঅ্যাসিডিটি’ সারা পৃথিবীতে হওয়া সবচেয়ে সাধারণ রোগগুলোর মধ্যে একটি। এতে অতিরিক্ত পিত্তরস বা অ্যাসিড দেহে উৎপন্ন হয়ে আবার খাদ্যনালীতেই ফিরে আসে।

এই সমস্যা এড়াতে কী খাওয়া হচ্ছে, কতটা খাওয়া হচ্ছে এবং কতবার খাওয়া হচ্ছে সেদিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন ভারতের ‘ভারতের ফুড বাই আনাহাতা’র প্রতিষ্ঠাতা রাধিকা আইয়ার তালাতি। তার পরামর্শ অনুসারে ‘ফেমিনা ডট ইন’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে অ্যাসিডিটি কমানোর উপায় সম্পর্কে জানানো হল।

অতিরিক্ত মসলা এড়িয়ে চলা: অতিরিক্ত মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, সরিষা বা অন্য যে কোনো গরম মসলার গুঁড়ার তৈরি খাবার হজম করা কঠিন এবং তা অ্যাসিডিটি বাড়ায়। জিরা বা মৌরি পাকস্থলীর অ্যাসিড কমাতে চমৎকার কাজ করে। এক টেবিল-চামচ মৌরি বা জিরা এক জগ পানিতে ভিজিয়ে রেখে প্রতিবার খাওয়ার পরে পান করা অথবা চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে, এতে অ্যাসিড হ্রাস পাবে।

নোনতা ও টক জাতীয় খাবার এড়ানো: মসলাদার ভাজা পোড়া বা চটকদার স্বাদের খাবারে বাড়তি লবণ ও টক যোগ করা থাকে। যা খেলে পাকস্থলিতে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। 

পর্যাপ্ত পানি পান: প্রচুর পানি, আঁশ-জাতীয় ফল, মৌসুমি সবজি প্রতিদিনকার খাবার তালিকায় যোগ করা উপকারী। এসবের পাশাপাশি ঘরে রান্না করা খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যকর।

বেখাপ্পা খাবার সম্পর্কে জানা: ভুল খাবারের সংমিশ্রণ হজমের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। যে কারণে অ্যাসিড বাড়ে ও বদহজম হতে পারে। খাবারের ভুল সংমিশ্রণ যেমন- দুধের সঙ্গে ফল, দই-দুধের মিশ্রণ বা পেঁয়াজ ও দই পরপর খাওয়া এরকম বিসদৃশ খাবার সমস্যা বাড়াতে পারে।

ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ কমানো: খাবার তালিকা থেকে চা ও কফি পরিমাণ কমাতে হবে। অতিরিক্ত চা বা কফি পান বুক জ্বালা-পোড়া করা ও অ্যাসিডির মাত্রা বাড়ায়।

খাবারের সময় নির্দিষ্ট করা: দিনে কমপক্ষে তিন বার খাওয়ার চেষ্টা করা এবং সন্ধ্যার পরে খাবার কম খাওয়া উপকারী। এতে হজম ক্রিয়া উন্নত হয় এবং অ্যাসিড হ্রাস পায়।

মন খারাপ বা মানসিক চাপে খাওয়া ঠিক না: মানসিক অবস্থার কারণে অনেক সময় বেশি খাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। আর এই সময় পাকস্থলীর খাবার হজম করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। একটু সময় নিয়ে এবং চিবিয়ে খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। দাঁড়িয়ে খাবার খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই বসে, শান্ত মনে ও ধীরে খাবার খাওয়া উচিত।

খাওয়ার পরে হাঁটা: প্রতিবার খাওয়ার পরে অন্তত দশ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা উপকারী। এটা খাবারকে পাকস্থলীতে পৌঁছাতে ও দ্রুত হজমে সহায়তা করে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password