নারীদের কেমিকেল প্রয়োগ করে অলংকার ও টাকা হাতিয়ে নেওয়া ‘শয়তানের নিশ্বাস’ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা।
রোববার বিকাল ৩টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। এর আগে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া এলাকার আবু হাসান, বাবু ও সবুজ।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক মাসে নওগাঁ জেলায় একদল অপরাধী শহরের কয়েকটি স্থানে বয়স্ক নারীর টার্গেট করে। পরে কথিত শয়তানের নিশ্বাস অর্থাৎ এক বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল (স্কোপোলামিন) ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের সম্মোহিত করে তাদের কাছে থাকা অলংকার এবং টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়। পুলিশ সুপার বলেন, এই কেমিক্যাল কোনোভাবে কারও নাকে প্রয়োগ করলে সেই ব্যক্তি কিছু সময়ের জন্য স্মৃতিভ্রম হয়ে যান এবং অপরাধীর কথামতো কাজ করেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই তার কানের দুল, স্বর্ণালংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীর হাতে তুলে দেন। এমনকি কখনো বাসার আলমারি খুলেও অলংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীদের হাতে তুলে দেন। এ-সংক্রান্ত নওগাঁ থানায় মোট তিনটি মামলা হয়। সেসব মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বেশ কয়েকবার নারায়ণগঞ্জ জেলায় অভিযান চালায়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ করে জেলা গোয়েন্দা শাখা জানতে পারে একটি চক্র টাঙ্গাইলে একই ধরনের ঘটনা ঘটাতে যাচ্ছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ডিবি পুলিশের একটা চৌকস দল টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাস স্ট্যান্ড থেকে শয়তানের নিশ্বাস চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সুপার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চক্রটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা এলাকায় রয়েছে। তাদের আট থেকে দশটি গ্রুপ রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে কেমিক্যাল প্রয়োগ করে এই ধরনের অপরাধ করে বেড়ায়। ইতোমধ্যে তারা নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ এবং খুলনা জেলায় কমপক্ষে ১০টি অপরাধ সংঘটিত করেছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম আরও বলেন, এই অপরাধ করার ক্ষেত্রে তারা বয়স্ক নারীদের টার্গেট করতেন। প্রথমে একজন অভিনয় করে সেই নারীর কাছে সাহায্য চান, আরেকজন এসে নারীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন এবং অপরজন এসে কেমিক্যাল স্প্রে করেন। এরপর আক্রান্ত নারী তাদের কথামতো সম্মোহিত হয়ে তার অলংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীর হাতে তুলে দেন। তিনি বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ এই ধরনের অপরাধ দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন