মৃদু ভূকম্পন কি বড় ভূমিকম্পের আভাস দিচ্ছে

 

সিলেটে একই দিনে দফায় দফায় মৃদু ভূকম্পন ভাবিয়ে তুলেছে ভূ-তত্ববিদদের। তাদের মতে, এই মৃদু ভূ-কম্পন ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পেরই আভাস দিচ্ছে। ভৌগলিকভাবেই বাংলাদেশের অবস্থান ভূমিকম্পের উৎসের একদম নিকটে। তাই এখন থেকেই ভূমিকম্প পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ ভূ-তত্ববিদদের।

সিলেটে সাত দফায় ভূমিকম্প বড় দুর্যোগের পূর্বাভাস বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের ভেতরেই বিপজ্জনক দু’টি ভূকম্পন উৎসের কথা জানিয়ে তারা বলছেন, যে কোনো সময় শক্তি দেখালে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনুমান করাও কঠিন। তাই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সচেতনার আহ্বান তাদের।

সিলেটের জৈন্তাপুরে লালাখালের দক্ষিণে ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে ডুপিটিলা পাহাড়ের ১৫ কিলোমিটার নিচে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। একবার, দু’বার নয় - অনুভূত হয় সাতবার। যদিও এর সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল ৪ দশমিক এক মাত্রার মৃদূ ভূমিকম্প।

হঠাৎ করে সিলেটে একই দিনে অনেকগুলো মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। স্বাভাবিক ভাবেই বলা যায় যে, বড় কোন ভূমিকম্পের পরে বা আগে এমন টানা মৃদু ভূকম্পন ঘটে। কিন্তু গেলো ১০০ বছরে ওই অঞ্চলে বড়মাত্রায় ভূমিকম্পের কোনো রেকর্ড নেইয়। তবে কি বড় ভূমিকম্পের আভাস দিচ্ছে এই মৃদু কম্পন গুলো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ভেতরেই যে দু’টি স্থানে বিপজ্জনক ভূকম্পন শক্তি লুকিয়ে আছে সিলেটের জৈন্তাপুর ও এর আশপাশের এলাকা এর মধ্যে একটি।

ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান ভূমিকম্পের উৎসের একেবারেই কাছে। সরাসরি বললে বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে ২ সক্রিয় টেকটনিক প্লেটের উপর। একদিকে ইন্ডিয়ান পেট আর অন্যদিকে বার্মিজ প্লেট। আর উত্তরের ইউরেশিয়া প্লেট এর সাথে এই দুই প্লেটই সমানভাবে সক্রিয়।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেছেন, ওই সব জায়গাতে ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বা হতে পারে। এই ভূমিকম্প নিয়ে আমাদেরকে গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করতে হবে। মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে এই তিন প্লেটের ক্রমসংকোচন ও একটির উপর একটি উঠে যাওয়ায় পাল্টে গেছে পুরো পৃথিবীর মানচিত্র।

এমনকি বিশাল হিমালয় সৃষ্টি হয়েছে এই কারণেই। আর এই তিন প্লেটের সবচেয়ে বিপদজনক ওভারল্যাপে ডাউকি ফল্ট নামে পরিচিত। যেখানে জমে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের শক্তি।

ঢাবির ভূ-তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ৫০০ থেকে ১০০০ বছরের ধরে বড় ও শক্তিশালী কোন ভূমিকম্প হয়নি। অর্থাৎ যে শক্তিটা ক্রমান্বয়ে জমা হচ্ছে, এই শক্তি একদিন না একদিন বের হতেই হবে। সেই শক্তিটা একবারেও নির্গত হতে পারে তাহলেতো পলায়নকারী ভূমিকম্প হবে।

তিনি আরো বলেন, আবার সেটা আংশিক হতে পারে। এই যে বিপুল পরিমাণ শক্তি ভূ-অভ্যন্তরে জমা হয়েছে, সেটা এক সময় না এক সময় বের হতেই হবে। সিলেটের ভূমিকম্প একটা আগাম সতর্কবার্তা। দেখা যাবে হয়ত আগামী ১০ দিনের মধ্যেই বড় ভূমিকম্প হতে পারে। কারণ অতি শক্তিশালী অঞ্চলে এ ভূমিকম্পটা হয়েছে।

অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে দু’য়েক কদমের মধ্যে আশ্রয় নেওয়া গেলে আমাদের জীবন রক্ষা পাবে। এবং সেটার জন্য আমাদের মহড়া প্রয়োজন।

যেহেতু সিলেট-চট্টগ্রাম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ, তাই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত মহড়া ও ভূমিকম্প সহনশীল স্থাপনা নির্মাণের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, এখন সুপ্ত অবস্থায় যে ফাটলগুলো আছে, সেগুলো যে কোনো সময় নাড়াচাড়া দিয়ে উঠবে। সিলেট ও ঢাকায় অনেক নির্মাণ কাজ হচ্ছে। এগুলো ভূমিকম্প সহনশীল হিসেবে করা হচ্ছে কিনা যাচাই করাটা খুবই জরুরি।

সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানালেন তারা।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password