টানা ৪ ঘণ্টা সাঁতরে ১৫ কিলোমিটার পাড়ি দিলেন ষাটোর্ধ্ব শহিদুল

টানা ৪ ঘণ্টা সাঁতরে ১৫ কিলোমিটার পাড়ি দিলেন ষাটোর্ধ্ব শহিদুল

নরসিংদী প্রতিবেদক : নরসিংদীর রায়পুরার মনিপুরা ঘাট থেকে মেঘনা নদীপথে নরসিংদী শহরের থানার ঘাটের দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। শখের সাঁতারু শহিদুল ইসলাম (৬৩) গ্রামবাসীর সঙ্গে বাজি ধরেন তিনি এই দূরত্ব সাঁতরে পার হবেন। গ্রামবাসীও ঘোষণা দেন, সাঁতার কেটে এই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলে তাঁকে দেড় লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

শহিদুল রাজি হয়ে ঘোষণা দেন, বাজিতে জিতে গেলে তিনি ওই টাকা বাড়ির পাশে নির্মাণাধীন মসজিদে দান করবেন। এরপর আজ সোমবার সকালে টানা ৪ ঘণ্টা সাঁতরে ১৫ কিলোমিটার দূরের গন্তব্যে পৌঁছেছেন শহিদুল। সকাল ৮টায় রায়পুরার মনিপুরা ঘাট থেকে সাঁতার শুরু করে দুপুর ১২টার দিকে নরসিংদী শহরের থানার ঘাটে এসে পৌঁছান তিনি। এ সময় তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান স্থানীয় লোকজন। শহিদুল ইসলাম পেশায় একজন কৃষক।

তিনি রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় লোকজন জানান, সম্প্রতি বকুল সিদ্দিকী নামের এক পল্লিচিকিৎসক কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে সাঁতরে রায়পুরার মনিপুরা ঘাটে আসেন। ওই দিন টানা সাত ঘণ্টা মেঘনা নদীতে সাঁতার কেটে প্রায় ৪২ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়েছিলেন মধ্যবয়সী ওই ব্যক্তি। এ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে শহিদুলও সাঁতরে মেঘনা নদী পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ওই দিনই সাঁতারের দিনক্ষণ নির্দিষ্ট করা হয়।

ঘোষণা অনুযায়ী আজ সোমবার সকাল আটটায় রায়পুরা উপজেলার হাইরমারা ইউনিয়নের মনিপুরা ঘাট থেকে শহিদুল সাঁতার শুরু করেন। সাঁতার শুরুর পর থেকেই বেশ কয়েকটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে স্থানীয় লোকজন তাঁকে সঙ্গ দেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর থানার ঘাটে এসে পৌঁছান শহিদুল। খেয়াঘাট এলাকায় তিনি পৌঁছাতেই উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। করতালি দিয়ে সেখানকার মানুষ শহিদুলকে স্বাগত জানান। এ সময় তাঁকে ফুলের মালা পরিয়ে দেওয়া হয়।

বিটানা চার ঘণ্টা নদীতে সাঁতার ইঞ্জিনচালিত নৌকায় থাকা কাউসার আহমেদ নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘সাঁতার শুরুর সময় থেকে শেষ পর্যন্ত আমি নৌকায় করে শহিদুলের পাশাপাশিই ছিলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম, উনি বয়স্ক মানুষ, হয়তো মাঝপথে হাল ছেড়ে দিয়ে নৌকায় উঠে যাবেন। কিন্তু প্রায় চার ঘণ্টা একটানা সাঁতার কেটেছেন। এই বয়সেও ভালো দম আছে তাঁর।’ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সাঁতরে গন্তব্যে পৌঁছানোর ইচ্ছা পূরণ হয়েছে ভেবে ভালো লাগছে।

মাঝপথে সমস্যা হলে আমাকে উদ্ধারের জন্য বেশ কিছু নৌকাও প্রস্তুত রেখেছিল গ্রামবাসী। গন্তব্যে পৌঁছার পর মনে হয়েছে সাঁতার কেটে আরও কিছু দূর যেতে পারতাম। পুরস্কার হিসেবে ঘোষণা করা দেড় লাখ টাকা হাতে পেলে আমি স্থানীয় মসজিদের নির্মাণকাজে দান করে দেব।’

জানতে চাইলে হাইরমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক বলেন, ‘আমাদের মনিপুরা ঘাট থেকে শহিদুল ইসলামের সাঁতার কেটে থানার ঘাট যাওয়ার বিষয়টি আমি জেনেছি। ৪ ঘণ্টা একটানা সাঁতার কেটে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দেওয়ায় আমি তাঁকে অভিনন্দন জানাই। তবে এ ধরনের উদ্যোগে নানা ঝুঁকির আশঙ্কা থাকে। তাই স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়ে এমন আয়োজন করা উচিত।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password