চির তরুণ হয়ে আজো দাঁড়িয়ে আছে শতবর্ষী বটগাছটি

চির তরুণ হয়ে আজো দাঁড়িয়ে আছে শতবর্ষী বটগাছটি

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের বিষ্ণুদি গ্রামের ঈদগাহ সংলগ্ন বটগাছটি কালের সাক্ষী হয়ে শত বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ছাঁয়া দিচ্ছে যুগের পর যুগ। কোনো অভিযোগ নেই, নেই কোনো অভিমান। চির তরুণ হয়ে আজো দাঁড়িয়ে আছে এই শতবর্ষী বৃহৎ বটবৃক্ষটি।

যেন বয়সের কোনো ছাপ লাগেনি তার। এই শতবর্ষী বটগাছকে ঘিরে রয়েছে নানা কল্প-কাহিনী, গ্রামের মানুষের কাছ থেকে নানা রকম ভৌতিক গল্পও শোনা যায়। বটগাছটিকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে ঈদগাহ, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দোকানপাট ও বসতবাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, অনেক পথিক এই রাস্তায় চলাচলের সময় বটের ছাঁয়া খানিকটা জিরিয়ে নেয়। আবার এই গৃষ্মের দাবদাহে আশপাশের কৃষিজীবী লোক এই বটের ছাঁয়ায় আসে একটু শিতল হওয়ার জন্য।

স্থানীয় ৬৫ বছর বয়সী হাবিব ফকির বলেন, আমার দাদার মুখে শুনেছি তারা জন্মের পর থেকেই এই বটগাছটিকে দেখে আসছেন। আবার তার দাদারাও একই কথা বলে গেছেন। তার ভাষ্যমতে বটগাছটির বয়স অন্তত ৫শ বছর হবে। তবে গাছটির সঠিক বয়স কেউ বলতে পারেনি। বর্তমানে বটগাছের নিচে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সমাগম ঘটে। এ বটগাছটি যেন সেই আদিম সভ্যতার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সারকথা আজো সবার সামনে তুলে ধরে আছে।

এদিকে অযত্ন আর অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ও নানামুখী অত্যাচারের কারণে এই ঐতিহ্যবাহী বটগাছের অস্তিত্ব আজ নষ্ট হতে চলেছে। বিশ্বায়নের যুগে ডিজিটাল দেশ গঠনের পাশাপাশি ক্লান্ত কৃষাণের প্রাণ জুড়ানো সবুজ প্রকৃতির বটের ছায়ার কোনো বিকল্প নেই। তাই ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতি বছর বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ উদযাপনকালে আমাদের বটের চারা রোপণ করা উচিত। এলাকার সচেতন মহল মনে করেন এই বটবৃক্ষটি সংরক্ষণ এবং এই স্থানটিতে দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা করলে এখানে আরও লোকসমাগম ঘটবে এবং ভবিষ্যতে বটবৃক্ষ এলাকা পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে।

মন্তব্যসমূহ (০)