কীর্তিতে কলঙ্ক ঢাকলেন মায়ার্স

কীর্তিতে কলঙ্ক ঢাকলেন মায়ার্স

চাঁদের যেমন কলঙ্ক আছে, তেমনি মায়ার্সের এই অবিশ্বাস্য ইনিংসেও ছিল দুটি কালো দাগ। এর বাইরে প্রায় ৭ ঘণ্টার ইনিংসে বাংলাদেশের বোলার-ফিল্ডারদের হতাশায় ডুবিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এ অলরাউন্ডার। রবিবার দিনের শুরুতে দুইবার সুযোগ পেয়েছেন মায়ার্স। দিনের দশম ওভারে তার বিরুদ্ধে রিভিউ নেয়নি বাংলাদেশ।

টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, সেই বলটি আঘাত করতে লেগস্ট্যাম্পে। তখন মায়ার্স অপরাজিত ৪৭ রানে। নিজের ইনিংসে আর ২ রান যোগ করার পর জীবন পান স্লিপে ক্যাচ দিয়ে, যেটি তালুবন্দি করতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। সেই বলেই ৫০ পূরণ হয় মায়ার্সের। অভিষেক টেস্টে ডাবল সেষ্ণুরি প্রথম এসেছিল ১১৮ বছর আগে। ১৯০৩ সালে ২৮৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন টিপ ফস্টার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিডনিতে এ অসাধারণ কীর্তি গড়েছিলেন ইংলিশ ব্যাটসম্যান। এরপর দীর্ঘ ৬৯ বছরের বিরতি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের লরেন্স রো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কিংস্টনে খেললেন ২১৪ রানের ইনিংস।

১৯৮৭ সালে শ্রীলঙ্কার ব্রেন্ডন কুরুপ্পু যোগ দিলেন এ দলে। তার ইনিংসটি ছিল কলম্বোতে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এ কীর্তির শিকার হওয়া নিউজিল্যান্ড সে কীর্তিতে নাম লেখাল ১৯৯৯ সালে। ম্যাথু সিনক্লেয়ারের কীর্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়েলিংটনে। টিপ ফস্টারের কীর্তির ঠিক ১০০ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাকুয়েস রুডলফ অভিষেকে আরো একটি ডাবল সেষ্ণুরি করেন চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে। মায়ার্স এই কীর্তি চট্টগ্রামকেও দ্বিতীয়বারের মতো ইতিহাসের অংশ করল।

বিশ্বের ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিষেক টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন কাইল মায়ার্স। ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার রুডলফ চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে ২২২ রান করেন। এরপর দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার পর এই বাংলাদেশের বিপক্ষেই অভিষেকে ষষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরিটি দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। বাংলাদেশের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করা মায়ার্স বাংলাদেশে আসার আগে নেশন স্পোর্টস নামে একটি ক্যারিবিয়ান সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে বাংলাদেশে গিয়ে তিনি একটি সেঞ্চুরি করবেন। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন আমার গডরিজ বয়েজ নামের একজন সাংবাদিক। আর সেই সাংবাদিককে দেয়া কথা রেখেছেন মায়ার্স। সেঞ্চুরি তো তিনি তুলে নিয়েছেনই সঙ্গে করে ফেলেছেন ইতিহাস। ২০৯ রান করে অপরাজিত থেকে তিনি দলকে জয় এনে দিয়ে তবেই মাঠ ছেড়েছেন। বাংলাদেশের দেয়া ৩৯৫ রানের টার্গেট যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পার করবে সেটি ভাবেনি কেউ। কিন্তু তার অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণে শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটের জয় তুলে নিতে সমর্থ হয় ক্যারিবিয়ানরা।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা ১০ জন খেলোয়াড় আসেননি করোনার দোহাই দিয়ে। বিষয়টি নিয়ে যেমন বাংলাদেশে আলোচনা হয়েছে, তেমনই আলোচনা হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজেও। সেখানকার সবাই ধরে নিয়েছিল যে বাংলাদেশের বিপক্ষে ধবল ধোলাই হবে ক্যারিবীয়রা। টাইগারদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে কিন্তু সেটিই দেখা গিয়েছিল।

কিন্তু এই মায়ার্স তার সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, তারা যারা বাংলাদেশে যাচ্ছেন তাদের সবার সক্ষমতা আছে ভালো কিছু করার। ফলে তিনি সেই সাক্ষাৎকারে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ক্যারিবীয়দের যেন হালকাভাবে না নেয়া হয়। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টিকে কম গুরুত্ব দিচ্ছি না। কিন্তু এটি আমরা বলতে পারি না তাদের বদলে যারা খেলতে যাচ্ছে তারা কিছু করতে পারবে না। আমরা যারা আছি তাদের ভালো কিছু করার সক্ষমতা আছে। আমরা ক্যারিবিয়ানরা সবাই ভালো ক্রিকেটার। আমি মনে করি, আমাদের শুধু দল হয়ে খেলতে হবে। আর এটি করতে পারলে ও পরিস্থিতি বুঝে নিতে পারলে যে কোনো কিছু করতে পারব।

এদিকে মায়ার্স বাংলাদেশে আসার আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলেন। আর এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। এই সিরিজটির পর বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার জন্য টেস্ট ও ওয়ানডের মূল দলে জায়গা পান তিনি। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজের মাধ্যমে তার ওয়ানডে ও টেস্টে অভিষেক হয়ে যায়। কাইল মায়ার্সের জন্ম হয় ১৯৯২ সালে বার্বাডোসে। সে হিসাবে তার বয়স হলো ২৮। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আসক্তি ছিল তার। আর সঙ্গে ছিল প্রতিভা। ফলে তিনি মাত্র ১৪ বছর বয়সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনূর্ধ্ব-১৫ দলে সুযোগ পান। এরপর পর্যায়ক্রমে খেলেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। তাছাড়া তিনি ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে বার্বাডোস ট্রাইডেন্স, সেন্ট লুসিয়া জুকসের হয়ে খেলেছেন।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password