রাতের আধারে দুস্কৃতিকারকদের গর্ত খুড়ায় ক্ষতিগ্রস্থ বারান্দার সামনের অংশ মেরামত

রাতের আধারে দুস্কৃতিকারকদের গর্ত খুড়ায় ক্ষতিগ্রস্থ বারান্দার সামনের অংশ মেরামত

ফরিদপুর  প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সালথার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপট্টি গ্রামে রাতের আধারে দুস্কৃতিকারকদের গর্ত খুড়ায় ক্ষতিগ্রস্থ বারান্দার সামনের অংশ মেরামত করা হয়েছে। দুষ্কৃতিকারীদের করা গর্তের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের বারান্দার নির্মানাধীন দেয়ালের (ডোয়া) কিছু অংশ। যেখানে আরসিসি পিলার স্থাপন বাকী ছিল  এবং নির্মাণ কাজও চলমান ছিল। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দৃষ্টিগোচর হলে  ত্রুটিযুক্ত অংশটুকু ভেঙ্গে তা পুনঃনির্মাণ করার নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ তাছলিমা আকতার।

তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য একটি কুচক্র মহল সব সময় সক্রিয় রয়েছে। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে যায়। তারই ধারাবাহিকতায় সালথায় এই ঘৃণিত কাজটি করেছে কুচক্র মহলটি। পরে সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। ভূমিহীন ও গৃহহীণদের জন্য মুজিব বর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘরের বারান্দার দেয়ালের (ডোয়া) পুনঃনির্মাণকৃত  অংশ দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ তাছলিমা আকতার। তিনি মঙ্গলবার  (৭ জুন) বিকালে তিনি ঐ আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো পরিদর্শন করেন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রুপা বেগম, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ তৌহিদুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও আশ্রায়ণ প্রকল্প সচিব পরিতোষ বাড়ৈ, মাঝারদিয়া ইউনিয়নের ইউ পি সচিব ইকবাল হোসেন,  সহ অন্যান্য গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ তাছলিমা আকতার বলেন, গত ১জুন রাত  ৮টা ২০ মিনিটে খবর পাই, একটি ঘরের বারান্দার সামনে অংশটুকুর মাঝামাঝি পিলারের কাছে গর্তের কারনে দুর্বল হয়ে গেছে। খবরটি পেয়েই রাতেই আমি পরিদর্শন করি। সেখানে গিয়ে দেখি ঘরের বারান্দার ডোয়ার নিচ দিয়ে কে বা কাহারা গর্ত করে রাখে। এমনভাবে গর্তটি করেছে যে সামান্য একটু পানির চাপ পাওয়ায় বারান্দার নির্মাণাধীন অসম্পূর্ণ ডোয়া (দেয়াল) ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

এরপর রাত ৮টা ৪৩ মিনিটের দিকে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ তৌহিদুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করি এবং পরদিন অর্থাৎ ০২ জুন সকালে মিস্ত্রিদের মাধ্যমে উক্ত ক্ষতিগ্রস্থ অংশ মেরামত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলাম। মাটি ভেজা থাকায় শুকানোর জন্য ৭দিন পর আজ বারান্দার সামনের অংশটুকু পুনরায় কাজ করানো হয়েছে। 

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক আর কৃত্রিম গর্ত করা দেখলেই বোঝা যায়, এটা দেখেই মনে হয়েছে কৃত্রিম গর্ত। ধারনা করা যাচ্ছে উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে রাতের আধাঁরে দুষ্কৃতিকারীরা গর্তটি করে রেখেছিলো। 

তিনি আরো বলেন, ড্রেজার দিয়ে বারান্দায় বালু ফেলা হয়নি, ঘরের ভেতরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে বারান্দায় ড্রেজার দিয়ে বালু ফেলায় তা হেলে গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। তাদের সাথে আলোচনা করে দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপনারা সকলেই জানেন এখান থেকে আগে দুটি মোটর চুরি হয়েছে, পরবর্তীদের চোরদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

নিম্নমানের সামগ্রীর অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ তৌহিদুর রহমান বলেন, এখানে রড ও সিমেন্ট ল্যাবে পরীক্ষা করে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইটের গুনগত মানও যথেষ্ট ভালো রয়েছে, যেটা দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। এখানে যে বালু ব্যবহার করা হচ্ছে তাতেও কোনো প্রকার মাটি যুক্ত নেই। 

তিনি আরো বলেন, এই ঘরটি নিয়ে কয়েকটি সংবাদপত্র ও অনলাইন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যা সঠিক নয়। সংবাদটি অতিরঞ্জিতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। কেননা তারা কোন টেকনিক্যাল এক্সপার্ট এর মতামত নেন নাই, কি কারনে ওয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেন নাই। বারান্দার সামনের অংশের মাঝামাঝি বরাবর গর্ত থাকায় সেখানের মাঝের পিলার সাপোর্ট দিতে পারছিল না। তখন মিস্ত্রিদের মাধ্যমে হ্যামার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। সিসি ঢালাইয়ের নিচে গর্ত হয়েছে যা অস্বাভাবিক। কেননা এই স্থানের মাটির কম্পাকশন ল্যাবে টেস্ট করে এরপরে ঘর নির্মাণ শুরু হয়েছে। যেহেতু সিসি ঢালাইয়ের নিচে গর্ত হয়েছে তাই পুনরায় কম্পাকশনের জন্য ওয়াল ভেঙে ফেলা হয় এবং রোদে শুকানোর জন্য আমরা অপেক্ষা করেছি। উপযুক্ত হয়েছে বিধায় ঘটনার ৭দিন পরে আজ গর্ত বন্ধ করে নতুনভাবে বারান্দার সামনের অংশ নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঘর নির্মাণ কাজ হচ্ছে বিষয়টি খুবই হাস্যোকর। কিছুদিন পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পিডি স্যার সব নির্মাণ সামগ্রী দেখে গিয়েছিলেন এবং তিনি সকলের উপস্থিতিতে ঘর নির্মাণের সামগ্রী দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

প্রসঙ্গত, সোমবার কয়েকটি গণমাধ্যমে “সালথায় কাজ শেষ হতেই হেলে পড়ল আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের বারান্দা” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয় কয়েকটি ঘর নির্মাণের ইটের কাজ প্রায় শেষের পথে। এখন শুধু বাকি আছে উপরে টিনের ছাউনি আর জানালা-দরজার কাজ। এরই মধ্যে বালু মিশ্রিত পানির চাপে একটি ঘরের ডোয়া হেলে পড়ে দুর্বল কাঠামোর জন্য।

তবে উক্ত সংবাদের বিষয়ে ইউএনও বলেন, উল্লেখিত সংবাদটির তথ্যগুলো মোটেও সত্য নয়। সংবাদটি অতিরঞ্জিভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। কেননা, তারা  কোনো টেকনিক্যাল এক্সপার্ট এর মতামত নেয়নি, কি কারনে ওয়াল ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর বক্তব্য নেয়া হয়নি।

মন্তব্যসমূহ (০)