জনগণকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের মধ্যে ফেলে দিয়েছে সরকার: রিজভী

জনগণকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের মধ্যে ফেলে দিয়েছে সরকার: রিজভী

দেশ দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জনগণকে ক্ষুধা, দারিদ্র্যের মধ্যে ফেলে দিয়ে সরকার এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে যে, দেশে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। বুধবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর শাহবাগে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে লিফলেট বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

‘জনগণের ক্রয়ক্ষমতা আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে’ আওয়ামী লীগ নেতা ও মন্ত্রীদের এমন দাবির কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সাধারণ জনগণের ক্রয় ক্ষমতা বাড়েনি। ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের। মন্ত্রীরা জনগণের সঙ্গে রসিকতা করছেন উল্লেখ করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা প্রশ্ন করেন, জনগণের ক্রয় ক্ষমতা বাড়লে টিসিবির ট্রাকের পেছনে এত বড় লাইন কেনো?

তিনি বলেন, জনগণ খেয়ে পরে বাঁচলো কি না, এটা তাগিদ দেওয়ার কোনো কিছু মনে করে না সরকার। দেশে আজ যদি নির্বাচিত সরকার থাকতো, তাদের একাউন্টিবিলিটি থাকতো তাহলে যেভাবেই হোক এটা নিয়ন্ত্রণ করত। রিজভী আরও বলেন, আজকে গণমাধ্যমে আসছে মানুষ দুপুরবেলা ভাতের বদলে বনরুটি ও কলা খেয়ে থাকছে। জনগণকে অনিদ্রায় রেখে সরকার শুধু নিজের ও নিজের লোকদের ভালো করছে।

প্রধানমন্ত্রী কেন ক্ষমতা ছাড়ছেন না, প্রশ্ন করে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিএনপিকে নিয়ে অনেক ছবক দিচ্ছেন। কেন উনি (প্রধানমন্ত্রী) ক্ষমতা ছাড়ছেন না? কেন উনি গদি ছাড়ছেন না? কারণ উনি ক্ষমতা থেকে সরে গেলে আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ দলটির সিনিয়র নেতারা দখল করবেন। এই ভয়ে তিনি জোর করে গণতন্ত্রকে কবর দিয়ে বসে আছেন।

‘বিএনপির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে’ মন্ত্রীদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিদিন হামলা-মামলার শিকার হচ্ছে। সিন্ডিকেট আর গোটা মাফিয়া চক্র সব তারাই। ক্যাসিনো, জুয়া সমস্ত সিন্ডিকেটের মালিক তারা। এই তারা কারা তাদের নামও তো আপনাদের গণমাধ্যমে এসেছে। সুতরাং এগুলো তারা বিভ্রান্ত করার জন্য বলেন।

কিন্তু মানুষ বিভ্রান্ত হয় না, তারা আরও হাসির পাত্র হন। আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা যখন কথা বলেন তখন তারা হাসির পাত্র হন। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে লিফলেট বিতরণ বিতরণকালে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক গোলাম মওলা শাহিন, সদস্য সচিব খন্দকার এনামুল হক এনাম, যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম নয়ন, মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ হাসান জ্যাকি, সদস্যসচিব আলামিন হোসেন প্রমুখ।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password