রাস্তাঘাটে বেওয়ারিশ মানুষদের সেবা করেন পুলিশের কনস্টেবল শওকত হোসেন

রাস্তাঘাটে বেওয়ারিশ মানুষদের সেবা করেন পুলিশের কনস্টেবল শওকত হোসেন

চট্টগ্রাম মহানগীর রাস্তাঘাটে বেওয়ারিশ মানুষদের সেবা করেন মহানগর পুলিশের কনস্টেবল শওকত হোসেন। যেসব শওকত হোসেনঅবস্থায় সড়কে পড়ে থাকেন অবহেলা-অযত্নে সেসব মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলেন এই পুলিশ সদস্য। পরে তাঁকে ঘিরেই চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ গড়ে তোলেছিল মানবিক পুলিশ ইউনিট। সেই পুলিশ কনস্টেবল পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)।

রবিবার ঢাকায় পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত অন্য পুলিশ সদস্যদর সঙ্গে তাঁকেও আনুষ্ঠানিকভাবে পদক পরিয়ে দেওয়া হবে। বেওয়ারিশ মানুষের সেবা করে পদক পাবেন এটা কখনো আশা করেননি শওকত হোসেন। সম্পূর্ণ নিজের মানবিকবোধ থেকেই তিনি বেওয়ারিশ মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এখন সেই কাজের জন্য পদক পাওয়ায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছেন।

শনিবার দুপুরে কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘এই পদক আমি বেওয়ারিশ মানুষদের প্রতি উৎসর্গ করছি। পদক গ্রহণের পর চট্টগ্রাম ফিরে ২০ হাজার টাকা মিষ্টি বিতরণ করব বেওয়ারিশ মানুষদের মাঝে। এই পদক তাদের দোয়ার ফল। ’ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্ণফুলী থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত থাকা শওকত হোসেন ২০২০ সালে কর্মরত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে।

ওই সময় তিনি নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে বেওয়ারিশ মানুষদের সেবা দিতেন। তাঁর এই অনন্য কর্মের কথা উঠে আসে গণমাধ্যমে। কালের কণ্ঠ পত্রিকায় তাঁকে নিয়ে প্রাকশিত হয় ফিচার প্রতিবেদন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মহানগরীর তৎকালীন কমিশনার মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে মানবিক পুলিশ ইউনিট গঠন করেন। সেই ইউনিটকে একটি অ্যাম্বুল্যান্সও দেওয়া হয়েছিল বেওয়ারিশ মানুষদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য।

কিন্তু পরবর্তীতে মানবিক পুলিশ ইউনিটের কার্যক্রম সচল রাখেনি সিএমপি। একই সঙ্গে শওকত হোসেনকেও সরিয়ে কর্ণফুলী থানায় পাঠানো হয়। সিএমপি মানবিক ইউনিটের কার্যক্রম বন্ধ করলেও শওকত থেমে যাননি। তিনি গঠন করেছেন বেওয়ারিশ সেবা ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের সব জেলায় শাখা খোলা হয়েছে। সরকার অনুমোদিত এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এখন বেওয়ারিশ মানুষদের সেবা দেন শওকত হোসেন।

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password