খালেদা জিয়ার কিছু হলে এর দায় সরকারকে নিতে হবে: ফখরুল

খালেদা জিয়ার কিছু হলে এর দায় সরকারকে নিতে হবে: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়ার কিছু হলে সরকারকে দায় নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গত রাতে খালেদা জিয়ার মাইল্ড হার্টঅ্যাটাক হয়েছে। আমরা আগে থেকেই বলে আসছি তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন।

কিন্তু সরকার এ বিষয়ে কর্ণপাত করছে না। খালেদা জিয়ার কিছু হলে এর দায় সরকারকে নিতে হবে। শনিবার রাজধানীর গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ‘বাজেট ২০২২-২৩ বিএনপির প্রতিক্রিয়া’ নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে ফখরুল এসব কথা বলেন। ফখরুল বলেন, গত রাতে হাসপাতালে ভর্তির পর খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছিল। পরে তার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা এনজিওগ্রাম করার সিদ্ধান্ত নেন।‌

শনিবার দুপুর একটার দিকে খালেদা জিয়ার এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, হার্টের সমস্যার চিকিৎসা শেষে আপাতত খালেদা জিয়া রিলিফ পেয়েছেন। বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা দেখা করেছেন।‌ এরপরও অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এর আগে গতকাল (শুক্রবার) গভীর রাতে হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে শুক্রবার রাত ৩টা ২০ মিনিটে খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। এরপর ১৮ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোমিন-উজ জামান ও অধ্যাপক সামস মনোয়ার রয়েছেন এই বোর্ডে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মেডিকেল বোর্ড বৈঠকে বসে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এ বৈঠকে যোগ দেন। দুপুরে জরুরিভিত্তিতে খালেদা জিয়ার এনজিওগ্রাম পরীক্ষা শুরু হয়। রিপোর্টে একটি ৯৫ শতাংশ ব্লক ধরা পড়ায় সেখানে রিং পরানো হয়েছে বলে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জাহিদ নিশ্চিত করেন। ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।

মন্তব্যসমূহ (০)