নওগাঁয় গৃহবধূকে নির্যাতনের ফলশ্রুতিতে গর্ভের বাচ্চা নষ্ট

নওগাঁয় গৃহবধূকে নির্যাতনের ফলশ্রুতিতে গর্ভের বাচ্চা নষ্ট

নওগাঁ সদর হাসপাতালে আজ মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) সকাল ৬:০০ ঘটিকায় ৫ মাসের বাচ্চা নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। গর্ভবতী শাপলার সাথে কথা বলে জানা যায় তাকে তার শশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতন করে তার ফলশ্রুতিতে তার গর্ভের বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায়। নির্যাতনের ঘটনা ঘটে শুক্রবার বৈকার ৪:০০ ঘটিকার কাছাকাছি সময়ে।

জানা যায় ২০১৬ সাল থেকে শাপলা এবং বায়েজিদের চার বছর প্রেমের সম্পর্ক। ঢাকায় থাকাকালীন সময়ে ২০২০ সালে তারা পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করে। কিছুদিন পরে শাপলার পরিবার বিষয়টি জানতে পারে তখন বায়েজিদ বলে আমি আর তোমাকে নিয়ে ঢাকায় থাকবো না আমরা বাড়ি চলে যাই। বায়েজিদ বাড়িতে আসে তবে শাপলা কে তার বাড়িতে না নিয়ে শাপলার বাপের বাড়ি পুরমইল বলিহারেই রেখে যায়। সে মাঝে মাঝে যাওয়া আসা করতো। শাপলার মা বারবার নিয়ে যেতে বলতো কিন্তু সে বিষয়ে বায়েজিদ কোন ভ্রুক্ষেপ করতো না।

এসব বিষয় নিয়ে শাপলার বাড়িতে বায়েজিদ প্রায় যাওয়া আসা বন্ধ করে দেয়। কিছুদিন পূর্বে শাপলা বায়েজিদ কে জানায় সে প্রেগনেট। বায়েজিদ বাচ্চা নষ্ট করতে বলে এবং সে বাচ্চা নষ্ট করার জন্য কিছু ঔষধ পাঠায় শাপলার কাছে । তবে শাপলা তাঁর বাচ্চা নষ্ট করতে নারাজ। শাপলা শুক্রবার সকালে উজ্জল মেম্বারের মাধ্যমে জানতে পারে বায়েজিদ আবার বিয়ে করতেছে তাই সে সরাসরি স্বামীর বাড়ি শরিফপুরে চলে যায়। শরিফপুরে উপস্থিত শাপলা বায়েজিদের স্ত্রী দাবী করলে বায়েজিদ অস্বীকার করে এবং বায়েজিদের চাচা কুদ্দুস, বড় ভাই নাজমুল, ছোট ভাই ফয়সাল, বোন সাকিলা সহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন মারধর করে। বায়েজিদের চাচা কুদ্দুস শাপলার পেটে লাথি দেয়। পুরমইল বলিহারের ইউপি সদস্য মোঃ সুমনের মাধ্যমে শাপলা কে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার সকাল ৬:০০ ঘটিকায় তার গর্ভপাত ঘটে । এ বিষয়ে ডাঃ সাদিয়া রহমান (স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন সিনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনী) বলেন শাপলার পেটে সজোরে আঘাত করা হয়েছে মূলত সেজন্যই তার গর্ভপাত ঘটেছে। শাপলা গত শুক্রবার নওহাটা, মহাদেবপুর ফাড়িতে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। ইতিমধ্যেই শাপলা মানবাধিকার কর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন।

অবশেষে শাপলা বানু জানান, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই নরপশু বায়েজিদসহ যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের সকলকে আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। ফাড়ি ইনচার্জের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা তদন্ত শুরু করেছি । তদন্ত শেষে এর সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password