কমলাপুরে রনির অবস্থানের কারণ জানতে চান হাইকোর্ট

কমলাপুরে রনির অবস্থানের কারণ জানতে চান হাইকোর্ট

কমলাপুর রেলস্টেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মহিউদ্দিন রনির অবস্থান কী নিয়ে, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ রেলওয়ের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতিসংক্রান্ত ছয় দফা দাবিতে আন্দোলনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রনি।

গত ৭ জুলাই থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তিনি। তার এই অবস্থান নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নজরে এলে বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির খায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবীর কাছে বিষয়টি জানতে চান। তখন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন ও দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, 'আমরা পত্রিকায় দেখলাম একটি ছেলে আন্দোলন করছে। ছেলেটি যে আবেদন করেছে সেটা নাকি সচিব গ্রহণও করেছেন। কিন্তু ছেলেটির বক্তব্য হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া দরকার। তার কোনো অভিযোগ থাকলে তিনি আদালতে আসতে পারেন। আমরা বিষয়টি দেখব। ' পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মহিউদ্দিন রনির একক আন্দোলনের বিষয়ে হাইকোর্ট জানতে চেয়েছেন।

১৩ দিন ধরে তিনি কমলাপুর রেলস্টশনে অবস্থান করছেন। আজ একটি ইংরেজি দৈনিক তার অবস্থান নিয়ে ছবি প্রকাশ করেছে। বিষয়টি নজরে এলে আদালত মৌখিকভাবে জানতে চেয়েছেন, এ বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না। আর রনির ছয় দফা দাবি কী নিয়ে। রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আইনজীবীকে তা জানতে বলা হয়েছে। ' দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘কমলাপুর রেলস্টশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থীর অবস্থানের বিষয়টি দুদক জানে কি না, জানলে কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা জানতে বলা হয়েছে।

বিষয়টি দুদককে জানিয়েছি। দুদক তথ্য-উপাত্ত দিয়ে আমাকে জানালে আমি তা আদালতকে জানাব। ' কোরবানির ঈদের আগে রেলের টিকিট কিনতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ায় গত ৭ জুলাই থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান নেন মহিউদ্দিন রনি।

গত ১০ জুলাই ঈদের দিনেও তিনি অবস্থানে ছিলেন। এক পর্যায়ে অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি রেলের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতির প্রতিবাদে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করেন। কিন্তু পুলিশের বাধায় শেষ পর্যন্ত গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চালিয়ে যেতে পারেননি। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে মহিউদ্দিনের সঙ্গে যুক্ত হন আরো কয়েকজন।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password