ঢাবিতে সকাল থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

ঢাবিতে সকাল থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনকে হাসপাতালেও পাঠানো হয়েছে। ছাত্রদলের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মদদে তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করেছে ছাত্রলীগ।

আর ছাত্রলীগ বলছে, বহিরাগতদের নিয়ে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিহত করেছে। দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্রলীগ আর ছাত্রদলের কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ আর সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো ক্যাম্পাস।

মঙ্গলবার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পূর্ব-ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের উদ্দেশে ক্যাম্পাসে আসতে থাকেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, এ সময় আগে থেকে অবস্থান নেয়া ছাত্রলীগের কর্মীদের বাধার মুখে পড়েন তারা। হঠাৎ করেই হাতাহাতি আর কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুপক্ষই জড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় শহীদ মিনারসহ পুরো এলাকা।

পরে ছাত্রদলের কর্মীরা ঢাকা মেডিকেলের সামনে অবস্থান নেন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দোয়েল চত্বরে আবারও দুইপক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল থেকে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা বের হয়ে দোয়েল চত্বর ও কার্জন হল এলাকায় আবারও সংঘর্ষে জড়ায়। ছাত্রদলের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মদদে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করেছে ছাত্রলীগ।

আহত হয়েছেন অর্ধশত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমান উল্লাহ আমান বলেন, ছাত্রলীগের এ হামলায় প্রশাসনের একটি পরোক্ষ সম্মতি রয়েছে। ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে এই সন্ত্রাসীদের রুখে দেবে। আর ছাত্রলীগের দাবি বহিরাগত ও অছাত্রদের নিয়ে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিহত করেছে।

ছাত্রদলের অস্ত্রের আঘাতে ছাত্রলীগ কর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ ছাত্রলীগের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও ক্যাডারদের নিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে হামলা করার চেষ্টা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে ছাত্রদল-ছাত্রলীগ দুপক্ষকেই সহনশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, কোনো মহল ক্যাম্পাসের স্থিতিশীল অবস্থা যাতে বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে যত্নশীল থাকা খুবই জরুরি। আমরা আইনশৃঙ্খলারক্ষা বাহিনীকেও বলব, প্রক্টরিয়াল বডি যারা তাদেরও বলা হবে। এদিকে সংঘর্ষের সময় প্রক্টরিয়াল বডির কাউকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। পাওয়া যায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য। ক্যাম্পাসের কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কোনো সদস্যের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

মন্তব্যসমূহ (০)