জুতা মিলিয়ে দিল তরুণের লাশের পরিচয়

হাতিরঝিল লেকে পড়েছিল টগবগে এক তরুণের লাশ। সেই লাশ উদ্ধার করলেও পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তাই লাশটি দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হয় আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে। তবে দাফনের ১১ দিন পর জুতার সূত্র ধরে মিলেছে নিহত তরুণের পরিচয়।

পুলিশ বলছে, ১৪ জানুয়ারি হাতিরঝিল লেক থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক তরুণের লাশ উদ্ধার করা হয়। সেই লাশ গত ১১ ফেব্রুয়ারি আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দাফন করেছে। তবে ২২ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় শনাক্ত করেছেন তার মা মনোয়ারা হোসেন। পরিহিত জুতা দেখে উদ্ধার করা লাশকে নিজের ছেলে  সাদমান সাকিব রাফি বলে চিহ্নিত করেছেন তিনি।

মনোয়ারা হোসেন জানান, প্রায় দেড় মাস আগে রাজধানীর ভাটারা থেকে নিখোঁজ হন ২৩ বছরের সাদমান সাকিব রাফি। গত ১৩ জানুয়ারি বাসা থেকে বেরিয়ে আর না ফেরায় পরিবার ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই রাফির মোবাইলে ফোন করতেন তিনি। গত ২৮ জানুয়ারি রাফির সিমটি চালু পাওয়া যায়। একটি কলের জবাবে কথা বলেন এক নারী। নিজেকে ঝাড়ুদার পরিচয় দিয়ে তিনি জানান, হাতিরঝিল এলাকায় ঝাড়ু দেয়ার সময় সিমটি তিনি কুড়িয়ে পেয়েছেন। দুই ঘণ্টা পর সিমটি আবার বন্ধ পান মনোয়ারা বেগম।

পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ ওই নারীর অবস্থান শনাক্ত করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে রাফির ব্যাপারে কোনো তথ্য পায়নি।

মনোয়ারা হোসেন আরো জানান, নিখোঁজ ছেলের সন্ধানে সোমবার ছেলের ছবিসহ নিজেই হাতিরঝিলে আসেন মনোয়ারা হোসেন। সেখানে পথচারী ও ফেরিওয়ালাদের রাফির ছবি দেখিয়ে তিনি জানতে চান কেউ তার ছেলেকে দেখছে কি-না? এ কাজে পুলিশের সাহায্য নিতে তিনি হাতিরঝিল থানায়ও যান। তখন পুলিশ তাকে জানায়, ১৪ জানুয়ারি হাতিরঝিলে অজ্ঞাতপরিচয় এক তরুণের লাশ উদ্ধার করে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে।

মনোয়ারা হোসেন জানান, পুলিশ লাশের ছবি দেখানোর পর রাফির সঙ্গে কিছুটা মিল ছিল। লাশটি পানিতে ছিল এবং ফুলে গিয়েছিল। পরে রাফির জুতা দেখালে ছেলেকে শনাক্ত করেন মা মনোয়ারা হোসেন।

মনোয়ারা হোসেন বলেন, রাফি জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিতে পালিয়ে গেছে বলে পুলিশ ধারণা করছিল। কিন্তু আমার ছেলে ১৩ জানুয়ারি আল্লাহর কাছে চলে গেছে। আমি বারবার বলেছি, আমার ছেলে জঙ্গি নয়। সে আত্মহত্যাও করবে না। আমার ছেলেকে কারা, কেন হত্যা করল?

তিনি আরো বলেন, রাফির সিম চালুর তথ্য পুলিশকে জানানোর পর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আর কিভাবে হাতিরঝিলে রাফি এলো সেটি পরিষ্কার নয়। ঢাকায় রাফির কোনো বন্ধ ছিল না। সে ঢাকা শহর ভালোভাবে চেনেও না। 

নিহত রাফি তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা সৌদি আরবে। তিন বছর আগে রাফি মালয়েশিয়ার এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় আসার পর করোনা পরিস্থিতির কারণে আর ফিরে যেতে পারেননি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার এসআই শাহজাহান বলেন, মনোয়ারা হোসেন তার ছেলের লাশ শনাক্ত করেছেন। এখন নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী তদন্ত হবে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন