মা-বাবার মন বলছে ইশরাক ঘরে ফিরবে

কানাডা থেকে দেশে বেড়াতে এসেছিলেন কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইশরাক আহম্মেদ। এক সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এরপর সাড়ে তিন বছর চলে গেছে। ইশরাকের খোঁজ মেলেনি।

ইশরাক যখন নিখোঁজ হন তখন কয়েক মাসের ব্যবধানে আরো ১৩ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের ফিরেও পেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। ছেলেকে ফিরে পেতে এখনো পথ চেয়ে আছেন ইশরাকের মা-বাবা। তাঁর বাবার ভাষ্য, একদিন না একদিন ছেলে ফিরবে। তাঁদের মন তা-ই বলছে। কিন্তু সেই দিনটি কবে হবে সেটাই শুধু অজানা।

ইশরাক আহম্মেদ ২০১৭ সালের জুলাই মাসের দিকে দেশে আসেন। ওই বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে বের হন স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে। আড্ডা শেষে ধানমণ্ডির বাড়ির পথে রওনা দেন। কিন্তু পৌঁছতে পারেননি। কে বা কারা তাঁকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায়। সেই যে যাওয়া, আজও ফেরা হয়নি।

ওই বছর আগস্ট মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩ জন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান, বাংলাদেশে বেলারুশের অনারারি কনসাল ও ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ কুমার রায়, বিএনপির নেতা ও ব্যবসায়ী সৈয়দ সাদাত এবং ২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আমিনুর রহমান। তাঁদের কাউকে কারাগারে পাওয়া গেছে। কেউ কেউ নিজেই ফিরে এসেছেন বাড়িতে। কিন্তু নিখোঁজ থেকে বাড়ি আসার পর কেউ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি।

ইশরাকের বাবা মো. জামালউদ্দীন জানান, ছেলের খোঁজে তিনি পুলিশ, র‌্যাব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কানাডীয় দূতাবাসে গেছেন। যে যেখানে যেতে বলেছেন সেখানে গেছেন। কিন্তু কেউ কোনো হদিস দিতে পারেননি। তিনি জানান, ইশরাক নিখোঁজ হওয়ার পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাসা থেকে ইশরাকের ল্যাপটপ নিয়ে যায়। এক দিন পর ল্যাপটপ ফিরিয়েও দিয়ে যায়। তারা বলে গিয়েছিল, কিছু পাওয়া যায়নি। জামালউদ্দীন বলেন, তাঁরা আশায় ছিলেন কিছুদিনের মধ্যেই ইশরাক ফিরে আসবে। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। এক এক করে চলে গেছে সাড়ে তিন বছরের বেশি সময়।

ইশরাকের বাবা জামালউদ্দীন বিডিটাইপকে বলেন, ‘ছেলেটাকে ফিরে পেতে যে যেখানে বলেছে সেখানে গিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ওই সময় যারা নিখোঁজ হয়েছিল তাদের সবাই ফিরল শুধু আমার ছেলেটা ছাড়া। জানি না প্রিয় সন্তান কোথায় কিভাবে আছে?’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের মন বলে সে ফিরবে। আমরা তার অপেক্ষায় আছি। হঠাৎই একদিন বাড়ি আসবে।’

জামালউদ্দীন আরো জানান, ছেলের সন্ধানে যখনই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তিনি গেছেন, তখনই তারা খুঁজে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। এখন আর সেই আশ্বাসও মিলছে না।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন