করোনা পরিস্থিতিতে রমজানের রোজার প্রস্তুতি

এ বছর মহামারি করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে রহমতের মাস রমজানের বেশ কিছু ইবাদতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই মহিমান্বিত এ মাসকে বরণ করার জন্য উপযুক্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা আমাদের সকলের ইমানি দায়িত্ব। মাহে রমজানের বরকতময় মুহূর্তগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানোর জন্য পূর্ব-প্রস্তুতিমূলক কিছু করণীয় তুলে ধরা হলো

ক. করোনা পরিস্থিতিতে মাহে রমজানের দিনগুলোতে প্রতিদিন কিছু সময় দীনি বিষয়ে ঘরোয়া তালিমের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে পিতা-মাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। পরিবারে এমন একটি রুটিন করে নেওয়া যেতে পারে, যাতে ঘরোয়া কাজের কারণে ইবাদতে ব্যাঘাত না ঘটে। একটি মুহূর্তও যেন নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরমুক্ত না হয়।

খ. ঈদের কেনাকাটা কমিয়ে বেশি বেশি দান করার চেষ্টা করা। লকডাউনের কারণে এ বছর এমনিতেই বড় বড় শপিং সেন্টারগুলো ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে না আসলে সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে এসব শপিং সেন্টার আর খুলবেও না। যদিও স্বল্প পরিসরে এসব শপিং সেন্টার খোলা থাকে তাতেও বিচরণ কিংবা যাওয়া আসায় ব্যাপক ঝুঁঁকি থেকেই যাবে। তাই এ বছর ঈদের কেনাকাটা কমিয়ে অসহায়-দরিদ্রের দান করার পরিকল্পনা করা উচিত। কেন না এ সময়ে অনেকেই খাবারের কষ্ট পাচ্ছে। এখন এমন অনেকেই আছেন তারা জানেন না, কোথায় গেলে তার এক বেলার আহার জুটবে। তাই দান-সদকা ও জাকাত দেওয়ার প্রয়োজন এই মুহূর্তেই সবচেয়ে বেশি। এই মুহূর্তে আমরা যারা ধনী বা সচ্ছল আছি, আমাদের উচিত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

গ. পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের জন্য একটি সময় নির্ধারণ করা। কোরআন তিলাওয়াত না জানলে শিখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

ঘ. বেশি বেশি ইসলামি বইপত্র অধ্যয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত রমজানের প্রয়োজনীয় মাসায়েল জেনে নেওয়া। প্রয়োজনে রমজানের আগেই এ বিষয়ে কিছু বইপত্র কিনে নেওয়া যায়, যাতে পরিবারের অন্য সদস্যরাও তা পড়তে পারে।

ঙ. সময় সুযোগ থাকলে রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করার নিয়ত করা যেতে পারে।

চ. কোনো বদ অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করার বিশেষ পরিকল্পনা নিতে হবে।

ছ. মাহে রমজানে সালাতুত তারাবি একটি ফজিলতপূর্ণ বিশেষ ইবাদত। বিশ্বব্যাপী দীর্ঘ সময়ে পবিত্র কোরআন খতমের মাধ্যমে এ নামাজ আদায় করা হয়। তারাবিহ নামাজের সময় মসজিদে ব্যাপক জনসমাগম হয়। কিন্তু এ বছর করোনার কারণে লকডাউন অব্যাহত থাকলে মসজিদে তারাবি আদায়ের ব্যাপারে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে ঘরে পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে স্বল্প পরিসরে এ নামাজ আদায় করতে হবে। এ জন্য এখন থেকেই আমাদেরকে এ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

জ. গুরুত্বপূর্ণ দুআ ও তাসবিহসমূহ রমজানের পূর্বেই শিখে নেওয়ার চেষ্টা করা। নেক কাজের পরিকল্পনাও একটি নেক কাজ। তাই আসুন রমজানের পূর্বেই রমজানকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করি।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন