লকডাউনের জেরে বাপের বাড়িতে আটকে পড়েছেন স্ত্রী, একাকীত্ব সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা স্বামীর

গোটা দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। বন্ধ গণপরিবহণ। লকডাউনের আগে বাপের বাড়ি গিয়েছিলেন এক মহিলা। কিন্তু লকডাউন ঘোষণা হতেই আর শ্বশুরবাড়ি ফিরতে পারেননি। এদিকে, লকডাউনের মাঝে একা গৃহবন্দি অবস্থায় থাকতে পারছিলেন না তাঁর স্বামী। পুলিশ সূত্রে খবর, একাকীত্বের জন্য মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। আর তার জেরেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন ওই মহিলার স্বামী। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কার মাঝে মর্মান্তিক এই ঘটনার সাক্ষী উত্তরপ্রদেশের রাধাকুন্ড।
ওই এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা বছর বত্রিশের রাকেশ সোনি। বিয়ে হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে। প্রতিবেশীদের দাবি অনুযায়ী, তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক ছিল স্বাভাবিক। সেভাবে অশান্তি হয়েছে বলে কোনওদিন শোনেননি কেউ। লকডাউনের ঠিক আগেই বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন রাকেশের স্ত্রী। শ্বশুরবাড়ি থেকে বেশ খানিকটা দূরে তাঁর বাপের বাড়ি। এদিকে, আচমকাই তিনি জানতে পারেন করোনা সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বন্ধ হয়ে যায় গণপরিবহণ। তাই বাপের বাড়িতেই আটকে যান ওই মহিলা।


স্ত্রী বাপের বাড়িতে থাকায় একাই দিন কাটছিল রাকেশের। সরকারি নিয়ম মেনে গৃহবন্দি অবস্থাতেই দিন কাটছিল তাঁর। একাকীত্বের জেরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। প্রতিবেশীরা একদিন দেখেন তাঁর বাড়ির ভিতর থেকে দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ডাকাডাকি করে কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। তাই পুলিশে খবর দেন তাঁরা। পুলিশ তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁঁছায়। ঘরের ভিতর ঢুকে তাঁরা দেখেন সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে রাকেশের দেহ। প্রাণহীন নিথর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠান পুলিশ। রাকেশের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পুলিশ। আদতে রাকেশ একাকীত্বের কারণে আত্মহত্যা করেছেন নাকি তার নেপথ্যে রয়েছে অন্য কিছু, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন