এমপিও নীতিমালা সহজ ও চলতি অর্থবছরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবি

এমপিও নীতিমালা সহজ ও চলতি অর্থবছরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়েছেন ‘নন-এমপিও নি¤œ মাধ্যমিক-মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন’র আহ্বায়ক শরীফুজ্জামান আগা খান।আজ ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে শরীফুজ্জামান আগা খান বলেন, “আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি ২০২০ সাল পেরিয়ে গেলেও নতুন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিভুক্তির নীতিমালা প্রণয়ন এবং এমপিও আবেদন চাওয়া হয়নি। ২০১৮ সালে এমপিও নীতিমালা প্রকাশের সময় শিক্ষামন্ত্রী প্রতিবছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। স্কুল-কলেজের ক্ষেত্রে এমপিও নীতিমালার শর্তের কঠোরতার কারণে ঐ বছর বরাদ্দকৃত অব্যয়িত ২১৫ কোটি টাকা ফেরত যায়। এই অর্থে আরো হাজারেরও অধিক স্কুল-কলেজ এমপিভুক্ত করা যেত। এক বছরের অধিক সময় ধরে নতুন করে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। একের পর এক দীর্ঘসভা হয়েছে। অথচ ২০২০ সাল পেরিয়ে গেলেও নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতীক্ষার প্রহর গুণতে গুণতে চাকুরী জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছেন।”

তিনি আরো বলেন, “বিগত এমপিও নীতিমালায় ৪টি মানদন্ডের বিচারে যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হয়েছিল। এগুলো হল- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির বয়স, মোট শিক্ষার্থী, পাবলিব পরীক্ষার্থী এবং পাশের হার। জানা যায়, এবারে স্বীকৃতির মেয়াদ বাদে অন্য ৩টি মানদন্ডে যোগ্য স্কুল-কলেজের মান নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। আমরা মনে করি, স্বীকৃতির মেয়াদ যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মানদন্ড হওয়া উচিত। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বয়স ১৫-২০ বছর পেরিয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই বিনা বেতনে এতটা দীর্ঘ সময় চাকুরীর কারণে মানসম্মত শিক্ষাদান ব্যাহত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে গেছে। তাছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রুগ্ন হওয়ার দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপরেও বর্তায়। ২০০৭ সাল থেকে এমপিও-ননএমপিও নির্বিশেষে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এনটিআরসিএ থেকে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২-১ বছর চাকুরী করার পর দূরের নিবন্ধিত শিক্ষকরা চাকুরী ছেড়ে চলে যান। ফলে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক স্বল্পতায় ভুগে। তদুপরি বিগত ২ বছর আইনী জটিলতার কারণে এনটিআরসিএ থেকে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। এ রকম পরিস্থিতির কারণে ১০ বছরের উর্দ্ধে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও পাশের হারে শিথিলতা কাম্য।”

তিনি বলেন, “সংশোধিত নীতিমালায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও মফস্বল -এই ৩ এলাকায় বিভক্ত করা হয়েছে। জেলায় অবস্থিত পৌরসভার সাথে উপজেলার পৌরসভার শহরায়নে পার্থক্য রয়েছে। বেশির ভাগ উপজেলার পৌরসভার প্রান্তের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একরকম গ্রামেই অবস্থিত। এক্ষেত্রে এমপিও নির্বাচক মানদন্ড কিছুটা সহজ হওয়া দরকার। আর সময়ক্ষেপণ নয় অবিলম্বে বাস্তবতার ভিত্তিতে এমপিও নীতিমালা চূড়ান্ত করে চলতি অর্থবছরেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা করা হোক।”

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন