লাইফ স্টাইল

খাটো পুরুষদের যৌনসঙ্গী পেতে সমস্যা হয় কি?

খাটো পুরুষরা নিজেদের কম উচ্চতার কারণে যৌন জীবনে যেসব অসুবিধার মুখে পড়তে পারেন, ইংরেজ লেখক এ্যালান মট সে ব্যাপারে বলেন, বেঁটে হওয়ার অসুবিধা হলো, প্রতি ১০ জন মেয়ের মধ্যে ৮ জনই একজন বেঁটে পুরুষকে প্রথম দেখার সময় সম্ভাব্য যৌনসঙ্গীর তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেয়।

প্রিয় পাঠক আমাদের পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন

তবে তার এই মন্তব্যের জবাবে অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতা জানিয়ে চিঠি লেখেন, যার মধ্যে ভালো-মন্দ দুই রকমই আছে।

রবার্ট লিখেছেন, আমার উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি। বেঁটে পুরুষরা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে, তাদের প্রেম করার জন্য মেয়ে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আমার কখনোই তা মনে হয়নি।

জানা গেছে, রবার্ট সুইডেনের লোক। যে দেশ দীর্ঘদেহী শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু রবার্ট বলেন, তার কখনোই মনে হয়নি যে অন্যদের পাশে তার খর্বাকৃতি খুব বেশি চোখে লাগছে।

তিনি বলেন, আমার সাথে সব সময়ই অনেক লম্বা লোকদের বন্ধুত্ব হয়েছে, আমার বেশিরভাগ পুরুষ বন্ধুরাই ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি থেকে ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা। ফলে আমি লম্বা লোকদের পাশে কখনো অস্বস্তি বোধ করিনি।

তিনি আরো বলেন, লোকে আমার উচ্চতা নিয়ে কথা বলেছে। কিন্তু আমি মনে করিনি যে আমাকে কেউ অপমান করছে। আমি ছিলাম আমার ক্লাসের বেঁটে ছেলেটি। ব্যস, এটুকুই। কখনো কখনো লোকে আমাকে ওপরে তুলে ধরেছে, কারণ আমাকে ওঠানো সহজ, এরকম কিছু বিরক্তিকর ঘটনা অবশ্য ঘটেছে। আমার ছোটবেলায় উচ্চতা বাড়ানোর জন্য একবার হরমোন ইঞ্জেকশন দেবার কথাও হয়েছিল। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে উচ্চতা কোনো অসুবিধার কারণ হয়নি।

তিনি আরো বলেন, আমি সবসময়ই দেখেছি মেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব করা আমার জন্য একটা সহজ ব্যাপার ছিল। এজন্য আমার কোনো চেষ্টা করতে হয়নি। কোনো মেয়েকে ডেট করতে গেলে আমি কখনো উচ্চতার কথা ভাবিনি। আমি যে মেয়েদের সাথে ডেট করেছি, তার মধ্যে ৫ ফুট এক ইঞ্চি অর্থাৎ আমার সমান উচ্চতার মেয়ে যেমন ছিল, তেমনি ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি লম্বা মেয়েও ছিল।

ক্রিস লিখেছেন, আমার উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। অনেক মেয়েই ৬ ফুটের কম উচ্চতার পুরুষদের সাথে ডেট করতে চায় না। আমি একবার একটা পরীক্ষা চালিয়েছিলাম ডেটিং এ্যাপ ওকেকিউপিড-এ। এতে আমার প্রোফাইলে প্রথমে লিখেছিলাম উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি।

তিনি আরো বলেন, দেখা গেল মেয়েরা সাড়া দিচ্ছে খুবই কম, সপ্তাহে হয়তো মাত্র একজন। আমি তাদের সবাইকে মেসেজ পাঠালাম। কিন্তু জবাব দিল তাদের মাত্র ২০ শতাংশ।

তিনি আরো বলেন, এরপর আমি আমার উচ্চতা পাল্টে লিখলাম ৬ ফুট ১ ইঞ্চি। আর তখন আমি তিন গুণ বেশি মেয়ের সাড়া পেতে লাগলাম। তাদের মেসেজ পাঠানোর পর সাড়া পেলাম অন্তত অর্ধেকের কাছ থেকে। লন্ডনের অনেক মেয়েই ৬ ফুটের কম লম্বা পুরুষের সাথে ডেট করতে চায় না।

এ্যাড্রিয়ান লিখেছেন, আমার উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। আমার অভিজ্ঞতা আবার অন্য রকম। আমার এক সাবেক প্রেমিকা খর্বাকৃতির পুরুষদের প্রতি আলাদা এক আকর্ষণ বোধ করতেন। আমি ক্রীড়াবিদ, এবং ১৯৮৪ অলিম্পিকে রোইং-এ স্বর্ণপদক জিতেছি।

আমার এক সাবেক প্রেমিকার উচ্চতা ছিল ৬ ফুট, কিন্তু তার দীর্ঘকায় পিতার সাথে তার সম্পর্ক খারাপ ছিল বলেই সম্ভবত তিনি বেঁটে পুরুষদের কাছে নিরাপদ বোধ করতেন। হয়তো অন্য লোকজনের প্রতিক্রিয়া দেখে তিনি মজাও পেতেন।

তিনি বলেন, আমি কিন্তু লোকের চোরা চাহনি আর ফিসফাসকে একটা প্রশংসা হিসেবেই নিতাম, কারণ লোকে নিশ্চয়ই ভাবতো যে আমার এমন কিছু একটা আছে যা খুবই দারুণ।

তিনি আরো বলেন, আমার প্রথম স্ত্রীর উচ্চতা ছিল আমার সমান। আমার দ্বিতীয় দীর্ঘমেয়াদি বান্ধবী ৬ ফুট। তৃতীয় স্ত্রী আমার চেয়ে ১ ইঞ্চি বেশি লম্বা। এখন আমার কোনো বান্ধবী নেই, তবে আগামী বান্ধবী যে-ই হবেন তার উচ্চতা নিয়ে আমার কোনো চিন্তা নেই। এটা ঠিক যে উচ্চতার কারণে আমি অনেক মেয়ের কাছেই বেশ খারাপভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছি, বিশেষ করে আধুনিক ইন্টারনেট ডেটিংয়ে। তবে আমার মত হলো আমার উচ্চতা সেই মেয়ের সমস্যা, আমার নিজের নয়।

এ্যাড্রিয়ান বলছেন, তার কম উচ্চতায় চিন্তিত হয়ে তার বাবা-মাও তাকে ছোটবেলায় হরমোন ইঞ্জেকশন দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সে সময়টায় হরমোন ইঞ্জেকশনের কারণে এক ধরনের রোগের ভয় ছড়িয়েছিল তাই সেটা আর হয়নি।

ক্যারল বলেন, আমার উচ্চতা ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি। আমি দেখেছি যে বেঁটে পুরুষরা লম্বা মেয়েদের একটা হুমকি হিসেবে দেখে এবং আমার বুদ্ধিশুদ্ধি নেই এমন ভাব দেখিয়ে আমাকে ছোট করার চেষ্টা করে। হয়তো এর মাধ্যমে তারা নিজেদের ‘বড়’ দেখাতে চায়।

ক্যারল বলেন, খাটো পুরুষরা তাকে দেখে হাসতেন এবং জিজ্ঞেস করতেন এত ওপরের বাতাস বেশি হালকা কিনা। আমি ছিলাম লিকলিকে, তাই আরো বেশি লম্বা দেখাতো। আমাকে বলা হতো, আমার ছেলেবন্ধু পেতে অসুবিধা হবে। আমি দেখতাম বেঁটে পুরুষরা উদ্ধত এবং তারা সবসময়ই যেন কিছু একটা প্রমাণ করতে চায়। এখন অবশ্য লম্বা মেয়ে অনেক বেশি দেখা যায় এবং এতে আমার আত্মবিশ্বাসের ওপরও প্রভাব পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমার বেঁটে লোকদের সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে, তবে প্রায়ই আমার মনে হতো তারা আমাকে একটা ট্রফি হিসেবে দেখে এবং আমাকে জয় করতে চায়, যেন আমি একটা পর্বত! আমাকে হিলছাড়া জুতা পরতে বলা হতো। অনেকে বলতো, আমি যেন বারে না দাঁড়িয়ে বরং বসি।

আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর উচ্চতা মাত্র ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি। তাই বেঁটে মানুষদের ব্যাপারে আমার কোনো খারাপ ধারণা নেই। আমার বান্ধবী ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি লম্বা একজন পুরুষকে বিয়ে করেছে। আমি নিজে বিয়ে করেছি ৬ ফুট উচ্চতার পুরুষকে। তবে আমি এখনো হাই হিল পরি এবং আমার উচ্চতা নিয়ে গর্ব বোধ করি।

অতীতে বেঁটে পুরুষদের আচরণের জন্য আমার উচ্চতা নিয়ে হীনমন্যতার বোধ তৈরি হয়েছিল । তবে এখন আমি জানি যে তারা নিরাপত্তাহীন বোধ করতো বলেই এমন করতো।

জরিপ কী বলে?

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন সমাজবিজ্ঞানী ২০১৪ সালে এক জরিপ চালান। যার পর দীর্ঘ এক রিপোর্টে তারা বলেন, খাটো মানুষদের বিয়ে দীর্ঘস্থায়ী এবং স্থিতিশীল হয়। এতে বলা হয়, খাটো পুরুষরা প্রায়ই তাদের চাইতে কম উচ্চতার নারীদেরই বিয়ে করে থাকে। তবে কখনো কখনো তাদের চেয়ে বেশি উচ্চতার নারীদেরও বিয়ে করে।

খাটো পুরুষরা প্রায়ই বেশি বয়সে বিয়ে করে। তবে তাদের বিবাহিত জীবন প্রায়ই দীর্ঘ এবং সুখের হয়।

প্রিয় পাঠক আপনার মতামত জানান

এ বিভাগের আরো খবর

Close
Close