বড়বোনকে তালাকের ভয় দেখিয়ে কিশোরী শ্যালিকাকে ধর্ষণ

বড়বোনকে তালাকের ভয় দেখিয়ে কিশোরী শ্যালিকাকে ধর্ষণ

ভগিনীপতির লালসার শিকার কিশোরী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বড়বোনকে তালাক দেওয়াসহ নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধামরাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের হলে পুলিশ সোমবার রাতে দুলাভাই শহিদুল ইসলামকে (২২) গ্রেফতার করেছে।

শহিদুল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেলার সদর থানার চরসিতারজার গ্রামের মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ওই কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রাজধানীর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য ঢাকার ধামরাই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা জেলার ধামরাই পৌরসভায় স্ত্রী ও শ্যালিকাকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল কুড়িগ্রাম জেলার সদর থানার চরসিতারজার শহিদুল ইসলাম। পেশায় সে রাজমিস্ত্রি আর স্ত্রী গার্মেন্টসের একজন নারী শ্রমিক। স্ত্রী কর্মস্থলে গেলে শ্যালিকাকে ফাঁকা বাসায় একা পেয়ে বড়বোনকে তালাক দেওয়াসহ নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে শহিদুল ইসলাম কিশোরী শ্যালিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।

৬ মাস ধরে ওই কিশোরীর (১২) সঙ্গে মেলামেশা করে সে। এদিকে ওই কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে শনিবার বড়বোন হাসপাতালে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় তার গর্ভে ৬ মাসের সন্তানের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হন চিকিৎসকরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কিশোরী তার বড়বোনকে সব বলে দেয়। এদিকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য শহিদুল ইসলাম নানাভাবে চাপা সৃষ্টি করে ওই দুই বোনকে।

স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তারা রক্ষা পায়। ওই কিশোরীর বাবা খবর পেয়ে রোববার বিকালে বড় মেয়ের বাসায় আসেন। এরপর স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে সোমবার রাতে ধামরাই থানায় গিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে।

এ বিষয়ে ধর্ষিতার বাবা বলেন, আমার মেয়েকে ভয় দেখিয়ে অনেক দিন ধরে খারাপ কাজ করে আসছিল শহীদুল। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ধামরাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ওয়াহিদ পারভেজ জানান, ভিকটিম ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুলাভাইকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password