ব্রাজিলকে বিদায় করে সেমিতে ক্রোয়েশিয়া

ব্রাজিলকে বিদায় করে সেমিতে ক্রোয়েশিয়া

২০ বছর ধরে নকআউট পর্বে কোনও ইউরোপীয়ান দলকে হারাতে না পারার রেকর্ড অক্ষুণ্ন থাকল। নকআউটে জয় না পাওয়ার রেকর্ড আরও চারবছর বাড়ল। টাইব্রেকার ভাগ্যে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে হেক্সা মিশন কোয়ার্টারেই শেষ হলো ব্রাজিলের। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূ্ন্য থাকার পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ে নেইমারের গোলে এগিয়ে যাওয়ার ঠিক দশ মিনিট ব্যবধানে পেটকোভিচের গোলে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া।

অতিরিক্ত সময়ে খেলা ১-১ ড্র হওয়ায় টাইব্রেকার হয়। পেনাল্টিশুটাউটে ব্রাজিলকে ৪-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে যায় ক্রোয়েশিয়া। বেশি সময় লিড ধরে রাখতে পারেনি ব্রাজিল। নেইমারের গোলে এগিয়ে যাওয়ার মাত্র ১০ মিনিট ব্যবধানে গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে (১-১০) সমতায় ফেরান পটকোভিচ। খেলার ১১৬ত মিনিটে গোল করেন তিনি। এর আগে অতিরিক্ত সময়ের ১৬তম মিনিটে গোল করে ব্রাজিলকে (১-০) এগিয়ে নেন নেইমার। জিতলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত। হারলে বিদায়।

এমন কঠিন সমীকরণের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি গত আসরের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়া। শুক্রবার কাতারের এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়ার কৌশলে এবং নিজেদের ব্যর্থতায় ব্রাজিল। ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য ড্র। খেলা গড়াল অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। অতিরিক্ত সময়ে গোল না হলে পেনাল্টিশুটাউট হবে।

দ্বিতীয় রাউন্ডে দক্ষিণ কোরিয়াকে উড়িয়ে ব্রাজিল শেষ আটে উঠেছে। রাশিয়া বিশ্বকাপের রানার্স আপ ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে এই ক্রোয়েশিয়ার অনেক পার্থক্য থাকলেও লুকা মদ্রিচের নেতৃত্বে দলটি এখনও প্রতিরোধে সক্ষম সেটিই প্রথম ৪৫ মিনিটে প্রমাণ হয়েছে। ব্রাজিল প্রথমার্ধে খুব একটা ছন্দময় ফুটবল খেলতে পারেনি। বাম প্রান্ত দিয়ে খানিকটা আক্রমণের চেষ্টা ছিল। ভিনিসিয়াস ও নেইমারের বোঝাপড়ায় ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণ দুই একবার ভেদ করলেও চূড়ান্ত সফলতা আসেনি। প্রথমোর্ধে দুই দলই খেলেছে সমান সমান।

বল দখলের লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়া কোনো অংশেই কম ছিল না ব্রাজিলের চেয়ে। ব্রাজিল পাস দিয়েছে ২৭৯টি। ক্রোয়েশিয়া দিয়েছে ২৬৭টি। গোলমুখে ব্রাজিল শট নিয়েছে ৫টি। ক্রোয়েশিয়া নিয়েছে ৩টি। ১৩তম মিনিটেই গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলো ক্রোয়েশিয়া। দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পেয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ডান পাশ থেকে জুরানোভিচ বল এগিয়ে দিলে ছোট বক্সের ভেতর দিয়ে বল যাওয়ার সময় তাতে পা লাগানোর চেষ্টা করেন প্যালাসিচ এবং পেরিসিচ। কিন্তু কেউ বলে পা লাগাতে পারেননি।

গোলও হয়নি। বেঁচে যায় ব্রাজিল। ১০৫ মিনিটে নেইমারের গোল মাঝ মাঠ থেকে বল নিয়ে ওয়ান-টু করে এগিয়ে যান। শেষ টাচটা দেন লুকাস পাকুয়েতা। সর্বশেষ গোলরক্ষ লিভাকোভিককে কাটিয়ে ক্রোয়েশিয়ার জালে বল জড়িয়ে দেন নেইমার।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password