সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকাতে যেখানে এলপিজি গ্যাসের দুষ্প্রাপ্যতা ও চড়ামূল্যে বিক্রি হওয়া সহ তিতাস গ্যাস সরবরাহ লাইনে বেশ কয়েকটি অঞ্চলে গ্যাসের প্রেশার কম থাকায় ঢাকাবাসির নাভিঃশ্বাস অবস্থা,সেই একই সময়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি তিতাসের অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে দীর্ঘ দিন ধরে সুবিধা নিয়ে আসছে। তেমনি একটি অবৈধ সংযোগের সুবিধাভোগী তিতাসের সাবেক কর্মকর্তা রুহুল আমিন ও পুত্র সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার সাকিব। যে ঘটনাটি ইতিমধ্যে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর ডেমরা থানা দিন ৬৬ নং ওয়ার্ড,বামৈল আইডিয়াল স্কুল রোডের ১৪/৭ হোল্ডিং এ এই অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহৃত হচ্ছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা যায়। ঘটনার সত্যতা জানতে মুঠোফোনে রুহুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী রুহুল আমিনের ফোন রিসিভ করে বলেন, তাদের আরেকটি লাইন আছে যে লাইনে তারা গ্যাস পান না তাই তারা এই লাইনটি ব্যবহার করেন। তিনি আরো বলেন শুধু আমি না আমার মত এখানে আরো অনেকেই এ ধরনের অবৈধ লাইন ব্যবহার করছে। প্রতিবেদকের সাথে কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি আরো জানান তাঁর বাড়ি সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী আরও দুটি বাড়িতে একইভাবে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে। যে কথোপকথনের কল রেকর্ড পত্রিকা অফিসে সংরক্ষিত আছে। অবৈধ গ্যাস সংযোগের সংযোগ দাতা ও মধ্যস্থতাকারীর সন্ধান করতে যেয়ে যার নাম সামনে চলে আসে, সে ওই এলাকারই বাসিন্দা তিতাসের একজন ঠিকাদার নাম সেলিম। সেলিমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথোপকথনের এক পর্যায়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা জালাল উদ্দিন জালুর আত্মীয় পরিচয়ে পরিবারটি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতো বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।
সংবাদ সংগ্রহের এক পর্যায়ে নিজেকে সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পরিচয় দানকারী রুহুল আমিনের ছেলে সাকিব প্রতিবেদক কে ফোন দিয়ে প্রতিবেদকের বাসা কোথায়, আইডি নাম্বার এগুলো জানতে চান এবং একই সাথে যা খুশি তাই লেখেন বলে হুমকি প্রদান করেন। পিতা সরকারি চাকুরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত আর সন্তান সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হয়েও সরকারি আইন অমান্য করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি আইনের প্রতি অসম্মানসহ অপরাধের শামিল বলে মতামত আইন বিশেষজ্ঞদের।
এ বিষয়ে তিতাসের ভিজিলেন্স মেট্রো ঢাকা সাউথের সহকারি প্রকৌশলী নাহিদুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান প্রতি মাসেই এ ধরনের অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়ে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে শীঘ্রই জরুরী ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
দ্রুত এই ধরনের অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে মানুষের মধ্যে আইন অমান্য করার প্রবণতা বাড়বে, একই সাথে অবৈধ গ্যাস সংযোগ অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে বলে সংশ্লিষ্ট সকলের অভিমত।অবৈধ গ্যাস সংযোগের আরো বিস্তারিত পরবর্তী পর্বে।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন