জাহাজ যখন নিজেই ঘাতক

সদরঘাটে ডুবে যাওয়া লঞ্চ উদ্ধারে আসা উদ্ধারকারী জাহাজের ধাক্কায় পোস্তগোলার বুড়িগঙ্গা সেতুতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু-১ (প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতু) এর উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করা দেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা অঞ্চল) সবুজ উদ্দিন খান এ কথা জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, ‘সেতুর একটি জায়গায় ফাটল দেখা দেওয়ায় যানবাহন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিশেষজ্ঞরা পরিদর্শন করার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’এদিকে রাজধানীর ব্যস্ততম এ প্রবেশ সংকোচিত হওয়ায় সেতুর দুই পাশে হাজারো যানবাহন আটকা পড়ে।

উল্লেখ্য, সোমবার সকালে ‘ময়ূর-২’ নামের একটি লঞ্চের ধাক্কায় ‘মর্নিং বার্ড’ নামে ছোট আরেকটি লঞ্চ অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে বুড়িগঙ্গায় ডুবে যায়। এতে ৩২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার করতে নারায়ণগঞ্জ থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ যাচ্ছিল। এ সময় সেই জাহাজের ধাক্কায় সেতুতে ফাটল দেখা দেয়। 

অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে সেতুর নিচে নৌপথের উচ্চতা কমে গেছে। এ কারণে উদ্ধারকারী জাহাজের ক্রেন সেতুতে ধাক্কা খায়। প্রথমে ঘটনা সামান্য মনে হলেও পরে সওজ জানায় আঘাত গুরুতর। 

সওজের ঢাকা জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সবুজ উদ্দিন খান জানান, সেতুর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত গার্ডারের ছবি পাঠানো হয়েছে। তাদের প্রাথমিক মত গার্ডার প্রতিস্থাপন করতে হবে। মঙ্গলবার বিশেষজ্ঞরা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চূড়ান্ত মতামত জানাবেন।নবনির্মিত ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পোস্তাগোলা সেতুর মাধ্যমে। বাবুবাজার সেতু হয়েও এক্সপ্রেসওয়েতে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। তবে বাবুবাজার সেতুর পর কেরানীগঞ্জ থেকে কদমতলী পর্যন্ত ফ্লাইওভারের কাজ এখনো শেষ হয়নি। তাই অধিকাংশ যানবাহন পোস্তাগোলা হয়ে চলাচল করে। এ সেতু বন্ধ হলে, দক্ষিণবঙ্গে যাত্রীদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

মন্তব্যসমূহ (০)


লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন