শুভ রমজান, আজ ১২ রমজান

শুভ রমজান, আজ ১২ রমজান
MostPlay

আজ ১২ রমজান। হাদিস সূত্রে জানা যায়, আল্লাহর নবী হযরত দাউদ আলায়হিস সালামের নিকট যবুর নাজিল হয়েছিল মাহে রমজানের ১২ তারিখে। আল্লাহ জাল্লাশানুহু ইরশাদ করেনঃ ওয়া আতায়না দাউদা যাবুরা- আর আমি দাউদকে দান করেছিলাম যবুর (সূরা নিসাঃ আয়াতঃ১৬৩) হযরত দাউদ আলায়হিস সালামের সময়েও সিয়াম বিধান ছিল। হাদিস থেকে জানা যায়, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুস আস (রা) সারা বছর সিয়াম পালন করতেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তাঁকে সারা বছর সিয়াম পালন করতে নিষেধ করে হযরত দাউদ (আঃ) -এর মতো একদিন সিয়াম পালন করতে নির্দেশ দেন। হযরত দাউদকে (আঃ) আল্লাহ জাল্লাশানুহু নবুওয়াত, হিকমত ও রাজত্ব দান করেছিলেন।

 জানা যায়, বনী ইসরাঈল তদানীন্তন নবী শামঈল (আঃ)-এর নিকট একজন বাদশাহ্ নিযুক্ত করার জন্য বললে তালুত নামের এক বিজ্ঞ ব্যক্তি বাদশাহ মনোনীত হন। জালুত নামে এক নরপতি বারবারদের সাহায্য নিয়ে তালুতের রাজ্য আক্রমণ করলে তালুতের সৈন্যবাহিনী তা প্রতিহত করতে সমর্থ হয়। এই যুদ্ধে একজন যুবক অত্যন্ত বীরত্বের স্বাক্ষর রাখেন। এই যুবকেরই হস্তে জালুত পরাজিত ও নিহত হয়। এই যুবকেরই নাম দাউদ। তালুত যুবক দাউদের সঙ্গে তাঁর মেয়েকে বিয়ে দেন। অচিরেই আল্লাহর রহমতে দাউদ তদানীন্তন বিশাল ফিলিস্তিন রাজ্যের বাদশাহর মসনদ লাভ করেন।

কোরান মজিদে এরশাদ হয়েছেঃ তারা (তালুতের বাহিনী) যখন যুদ্ধার্থে জালুত ও তার সৈন্যবাহিনীর সম্মুখীন হলো তখন তারা বলল, হে আমাদের রব, আমাদের ধৈর্যদান করুন, আমাদের কদর দৃঢ় রাখুন এবং সত্য প্রত্যাখ্যাানকারী কওমের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য দান করুন। সূতরাং তারা আল্লাহর হুকুমে ওদেরকে (জালুতের বাহিনীকে) পরাভূত করল, দাউদ জালুতকে কতল করল, আল্লাহ তাঁকে রাজত্ব এবং হিকমত দান করলেন এবং যা তিনি ইচ্ছা করলেন তা তাকে শিক্ষা দিলেন। আল্লাহ যদি মানব জাতির এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন তবে পৃথিবী বিপর্যস্ত হয়ে যেত। আল্লাহ বিশ্ব জগতের প্রতি অনুগ্রহশীল (সূরা বাকারাঃ আয়াত ২৫০-২৫১)।

হযরত দাউদ আলায়হিস সালাম মধুর কন্ঠের অধিকারী ছিলেন। তিনি যখন যবুর পাঠ করতে তখন তা শুনে মানুষ তো বিমোহিত হতোই এমনকি পাখিরা পর্যন্ত বিমোহিত হয়ে ভিড় জমাত। তিনি লোহা দ্বারা নানান ধরণের হাতিয়ার নির্মাণের বিশেষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছিলেন। আল্লাহ জাল্লাশানুহু ইরশাদ করেনঃ আমি নিশ্চয় দাউদের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম এবং আদেশ করেছিলাম, হে পর্বতমালা তোমরা দাউদের সঙ্গে আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং পাখিদেরকেও (এই নির্দেশ দিয়াছিলাম)। তার জন্য নমনীয় করেছিলাম লোহকে, যাতে পূর্ণ মাপের বর্ম তৈরী করতে এবং বুননে পরিমাপ রক্ষা করতে সক্ষম হয় (সূরা সাবাঃ আয়াতঃ ১০-১১)। আল্লাহ্ জাল্লাশানুহু আরও ইরশাদ করেন  আমি তাহার (দাউদের) রাজত্বকে সুদৃঢ় করেছিলাম এবং তাকে হিকমত ও ফয়সালাকারী বাগ্মিতা দান করেছিলাম (সূরা সোয়াদঃ আয়াতঃ২০)। হযরত দাউদ আলায়হিস সালাম নবী ছিলেন এবং বিশাল সাম্রাজ্যের বাদশাহ ছিলেন। তিনি সারা বছর একদিন অন্তর অন্তর সিয়াম পালন করতেন।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password