অর্থনীতি

বাংলাদেশেই তৈরি হবে প্রিন্টিংয়ের কালি

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কালি প্রস্তুতকারী জাপানের প্রতিষ্ঠান সাকাতা ইনক্স বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। সেখানে একটি কালি উৎপাদনের কারখানা করা হবে। এর ফলে বাংলাদেশেই তৈরি হবে প্রিন্টিংয়ের কালি।
সাকাতা শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে শুরুতে এক কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৪ কোটি টাকার সমান। এতে এক হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। অবশ্য পরে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়বে।
এই বিনিয়োগের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাকাতা ও মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনের মধ্যে সম্প্রতি জমি ইজারা চুক্তি সই হয়।
মেঘনা গ্রুপের পক্ষে পরিচালক তানভীর আহমেদ মোস্তফা ও সাকাতা ইনক্স (বাংলাদেশ) প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ভি কে শেঠ চুক্তিতে সই করেন।
এ সময় বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।
পবন চৌধুরী বলেন, দেশে বিনিয়োগ বাড়তে থাকা জাপানি কোম্পানির ক্ষেত্রে নতুন সংযোজন হবে সাকাতা ইনক্স। বাংলাদেশে ২ হাজার কোটি টাকার কালির বাজারে সিংহভাগ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তবে সাকাতার এই বিনিয়োগের ফলে বিদেশি মুদ্রা যেমন সাশ্রয় হবে, তেমনি রপ্তানিরও সুযোগ তৈরি হবে।
সাকাতার বিনিয়োগ অন্য জাপানি কোম্পানিগুলোকেও বাংলাদেশে আসতে উৎসাহিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, অর্থনৈতিক জোন বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। যেকোন দেশে বিদেশি বিনিয়োগ রেমিটেন্স আহরণের তুলনায় বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উত্তম পন্থা। তিনি জানান, বাংলাদেশে ৩ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের ভারতীয় বিনিয়োগ পাইপলাইনে রয়েছে। এছাড়া ভারত ভেড়ামারা, মোংলা ও মীরেরসরাইয়ে তিনটি বিশেষায়িত অথনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা করছে।
সাকাতা ইঙ্কসের চেয়ারম্যান ভি কে শেঠ বলেন, মেঘনা জোনে দেড় বছরের মধ্যে কালি উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কালি তৈরী করা হবে যা দেশের প্যাকেজিং শিল্পে গুরুত্বপূর্র্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে প্রায় ১১০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে। কারখানা করার জন্য সাকাতা ইনক্স সেখানে পাঁচ একর জমি নিচ্ছে। এটি হবে এই জোনে তৃতীয় কারখানা।

প্রিয় পাঠক আমাদের পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন
প্রিয় পাঠক আপনার মতামত জানান

এ বিভাগের আরো খবর

Close
Close