গোয়েন্দা নজরদারিতে দেশের বেশ কিছু ই-কমার্স ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান

গোয়েন্দা নজরদারিতে দেশের বেশ কিছু ই-কমার্স ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান

গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা ও বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠা ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জের মতো আরও বেশ কিছু ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিষয়ে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি চলছে বলে জানা গেছে। 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য মতে, সম্প্রতি গ্রাহকের সঙ্গে পণ্য প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎসহ এমন নানা অভিযোগ ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ডের ধরন খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। অভিযোগ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্যপ্রমাণ পেলেই অনলাইনভিত্তিক এসব প্রতিষ্ঠান বা মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতারণার অভিযোগ ওঠায় অন্তত ২৬টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড নজরদারি করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও সুপারিশ করেছে। এর ধারাবাহিকতায় ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে ই-অরেঞ্জের কয়েকজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত চলছে অন্য আটটির বিরুদ্ধে।
রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেছেন, ই-কমার্সের মাধ্যমে প্রতারণার বিষয়ে তদন্ত চলছে। এতে কারো কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইভ্যালি একটা, আরো কয়েকটা ইকমার্স প্রতিষ্ঠান মানুষের কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়েছে। কিভাবে তারা তাদের কমিটমেন্ট পূরণ করবে, এটা আমার এখন জানা নেই। আমরা মনে করি, তারা যে কমিটমেন্ট জনগণকে দিয়েছে, তা যদি পূরণ না করে, তবে আইন অনুযায়ী আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং করতেই হবে। ’ তিনি বলেন, ‘যারা প্রতারণা করবে তাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী খুঁজে বের করবে, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা আমরা করব। কেউ যদি প্রতারণার উদ্দেশ্যে করে। আমাদের কাছে খবর আসছে, এগুলো তদন্তে কমিটি কাজ করছে। 

জানা গেছে, পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীও এ নিয়ে কাজ করছে। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনও নিজেরা তদন্ত শুরু করেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১০টি ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ তদন্ত করছে সিআইডি। এসব প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা শপিং, কিউকম, আলেশা মার্ট, বুমবুম, আদিয়ান মার্ট, নিডস, সিরাজগঞ্জ শপ ও আলাদিনের প্রদীপ। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুপারিশও করেছে। এগুলো ছাড়াও আরো অন্তত ১৬টি প্রতিষ্ঠানের নাম জানা গেছে যাদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এগুলোর মধ্যে আছে এসপিসি ওয়ার্ল্ড, দালাল প্লাস, শেষ্ঠ.কম, থলে, আকাশনীল, প্রিয় শপ, আনন্দের বাজার, জুমবাজার, পারপ্লেক্স, লাখসুরা, ইনিডজ, আলিফ ওয়ার্ল্ড, গো বাই, পল্লী বাজার, নিরাপদ ডটকম, এসকে ট্রেডার্স ও মোটরস, ২৪ টি কে টি ডট কম, গ্রিনবাংলা, এক্সিলেন্টবিগবাজার, ফাল্গুনিশপ। 

অভিযুক্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ প্রতারণার কথা জানা যাচ্ছে। তবে এর পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। 

তদন্ত শুরু হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘প্রতারক সব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

এর আগে গত শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেও এই কর্মকর্তা একই ধরনের তথ্য জানান। তিনি বলেছেন, ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জসহ এমন আরো প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা প্রতারণা করেছে। বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে পণ্য বিক্রির অফার দিয়ে যারা গ্রাহকদের পণ্য দেয় না তারা মূলত প্রতারণা করছে। তিনি যোগ করেন, ‘এ ধরনের প্রতারকদের বেশি বেশি ধরা হলে ধীরে ধীরে প্রতারণা কমে আসবে। আমরা চাই, সুন্দর একটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ফিরে আসুক।’ 

ঊর্ধ্বতন এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, যারা ক্রেতা বা বিনিয়োগকারী তাদেরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। কেউ বড় কোনো অফার দিলেই হুমড়ি খেয়ে কেনাকাটা বা বিনিয়োগ করা উচিত নয়। লোকজনকেও বুঝেশুনে ই-কমার্সে বিনিয়োগ করতে হবে। লোভের কারণেও অনেকে এ রকম প্রতারণার শিকার হচ্ছে। সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সময়টা এখন প্রযুক্তিগত উন্নয়নের। ফলে ‘সাসটেইনবল ই-কমার্সের’ দিকেও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password