পদ্মা সেতু সোনা দিয়ে মুড়িয়ে তৈরি করেছে সরকার: মির্জা ফখরুল

পদ্মা সেতু সোনা দিয়ে মুড়িয়ে তৈরি করেছে সরকার: মির্জা ফখরুল

জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২২-২৩ অর্থ বছর প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গ টেনে আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতারা।

নেতারা বলেন, সাত শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে পাচার করা অর্থ পাচারকারীরা ফেরত আনতে পারবে। পাচার করা অর্থ ফেরাতে দায়মুক্তি প্রমাণ করে প্রস্তাবিত বাজেট সাধারণ মানুষের জন্য নয়। বরং এই সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু ও উত্তরের আমিনুল হকের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আবদুস সালাম আজাদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, তাবিথ আউয়াল, মহানগর বিএনপির ইশরাক হোসেন, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, যুবদলের মামুন হাসান, মহিলাদলের হেলেন জেরিন খান, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, ছাত্রদলের সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমূখ।

সমাবেশে বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কামরুজ্জামান রতন, মীর সরফত আলী সপু, নাজিম উদ্দিন আলম, শামীমুর রহমান শামীম, মীর নেওয়াজ আলীসহ রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড, থানা ও মহানগরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সমাবেশে অংশ নেন।

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, পিকে হালদারের (ভারতে গ্রেপ্তার) মতো যারা টাকা চুরি, ডাকাতি, লুণ্ঠন করে বিদেশে টাকা পাচার করল তারা এখন ৭ শতাংশ ট্যাক্স দিলে তা ফেরত আনতে পারবে। এদের দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) ধরবে না, হাইকোর্টও কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না। বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের নাকি লুটেরাদের, এমন প্রশ্ন করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, এ সরকার মানুষের পকেট কেটে নিজেদের পকেট ভারি করে দেশের অর্থনীতি ও সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এরা অনির্বাচিত সরকার। জনগণের বাজেট দেওয়ার কোনো এখতিয়ার তাদের নেই। গত ১৪-১৫ বছরে সরকারের দুঃশাসনে প্রমাণ করেছে তারা এখন জনগণের শত্রু। এরা গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে উল্লেখ বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাসভাড়া ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। তারা আবার ঘোষণা দিয়েছে, সারের দামও বাড়বে। অর্থাৎ কৃষি খাতে সারের দাম তিনগুণ বাড়বে।

শিল্প-কলকারখানায় যে গ্যাস ব্যবহার করা হয়, তার দামও বাড়বে। প্রতিটি জিনিসের দাম এভাবে বাড়বে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, আপনারা জিনিসটিকে হালকা করে দেখবেন না। এ দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এতটুকু বৃদ্ধি পায়নি। যখন মানুষ চাল, ডাল, তেল, লবণ-এসব কিনতেই হিমশিম খাচ্ছে তার মধ্যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। এর অর্থ হচ্ছে এই সরকারের দেশের মানুষের প্রতি কোনো ভালোবাসা নেই।

জনগণের পকেট থেকে টাকা কেটে কেটে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা সরকার বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, বাজেটে দেখবেন, সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রশাসন খাতে। পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রশাসনের লোকজন। সরকার তাদের বেতন বাড়াচ্ছে। বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়াচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ এমন উন্নয়ন করেছে দেশের ৪২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে।

অর্থাৎ ১০০ জনের মধ্যে ৪২ জন দরিদ্র। তাদের ক্রয়ক্ষমতা নেই। সেই মানুষদের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে আওয়ামী লীগ সরকার কিছুই করেনি। উপহাস করে মির্জা ফখরুল বলেন, পদ্মা সেতু সোনা দিয়ে মুড়িয়ে তৈরি করেছে সরকার। এখন আমরা বিভিন্ন টোল দিয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে স্বর্গে যাব। মির্জা ফখরুল বলেন, আর সময়ক্ষেপণের সময় নেই। সরকারকে বলব এই মুহূর্তে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ও সংসদ বাতিল করুন।

এবং নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করে নতুন সরকার গঠন করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অন্যথায় পালাবারও পথ খুঁজে পাবেন না। আমাদের নেতা যে আওয়াজ দিয়েছেন-ফয়সালা হবে কোনো পথে, রাজপথে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে সরকারের পতন ঘটাতে হবে। পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।

আওয়ামী লীগকে যখন মিছিল-মিটিং করতে দেবেন তাহলে আমাদেরকেও মিছিল-মিটিং করতে দিতে হবে। আর যদি সেখানে বাধার সৃষ্টি করেন তাহলে জনগণই সেই বাধা প্রতিহত করবে। আপনারা (পুলিশ বাহিনী) মানুষের ওপর অন্যায়-অত্যাচার করবেন না, বিনা কারণে মানুষকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাকে অত্যাচার করবেন না, রিমান্ডে নেবেন না। এগুলোর একদিন না একদিন আপনাদের জবাবদিহি করতেই হবে।

মন্তব্যসমূহ (০)