নওগাঁর পত্নীতলায় ফুলগাছ দিয়ে তৈরীকৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বিনষ্টের অভিযোগ

নওগাঁর পত্নীতলায় ফুলগাছ দিয়ে তৈরীকৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বিনষ্টের অভিযোগ

নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলায় মুজিবর্ষ উপলক্ষে ফুলগাছ দিয়ে তৈরীকৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বিনষ্ট করবার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে নওগাঁ পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেছেন প্রতিকৃতি তৈরিকারী মোঃ ফরহাদ আলম নামের এক ব্যক্তি।

আবেদন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিকার প্রার্থী মোঃ ফরহাদ আলম এক সময় কর্মসূত্রে ঢাকায় বসবাস করতেন। সেই সময় ঢাকায় বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান তাকে ভীষনভাবে নাড়া দিতো। যার ফলশ্রুতিতে এলাকায় ফিরে এসে বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার সেই টান থেকেই সিদ্ধান্ত নেন তাঁর একটি প্রতিকৃতি বানানোর। সে সময় ফুলগাছ দিয়ে প্রতিকৃতি বানানোর বিষয়টি তার মাথায় আসে। আর সেই ভাবনা থেকেই নিজ জেলার পত্নীতলা উপজেলাধীন বালুঘা নামক এলাকায় তার সে স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে আপণ খালাতো ভাই স্থানীয় হামিদুর রহমান রনির ভাড়াকৃত এক একর জমিতে ৪০ হাজার ফুল গাছের সমন্বয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি তৈরির কাজ শুরু করেন। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৬ মাস ধরে ফুলগাছ দিয়ে তৈরীকৃত এ প্রকল্পটিতে গড়ে তোলেন বঙ্গবন্ধুর ৩টি প্রতিকৃতি, ৭ই মার্চের ভাষন এবং বাঁশ, গাছের গুল ইত্যাদি দেশজ উপকরণ দিয়ে গড়ে তোলেন ৩'শ ফুট দৈর্ঘের একটি নৌকা প্রতীকের অবয়ব যা কিনা আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের প্রদর্শনীর জন্য উন্মুক্ত করার কথা ছিল। কিন্তু তার লালিত সেই স্বপ্ন অধরায় থেকে গেল। তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ না হতেই কোন আলোচনা ছাড়াই অভিযুক্ত পত্নীতলা নিবাসী মোঃ নজরুল ইসলামের ছেলে নাজমুল আরেফিন পুনোরায় একই জমিটি অন্য আর একজনের কাছে হস্তান্তরের পাঁয়তারা করেন। এক পর্যায় গত শুক্রবার ও শনিবার নাজমুল আরেফিন সহ পত্নীতলা নিবাসী জালালের ছেলে আরমান, আয়েন আলীর ছেলে আমিনুল, মনিরের ছেলে মামুন, আলাউদ্দিনের ছেলে রফিকুল বুলডোজার দিয়ে পুরো প্রকল্পটি গুড়িয়ে দেন।

এবিষয়ে অভিযোগকারী ফরহাদ আলম জানান, বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালবাসা থেকেই প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিলাম ইচ্ছে ছিল মুজিবর্ষে বিজয় দিবস উপলক্ষে, সেটি সকলের সামনে উন্মোচিত করার। কিন্তু আমার দীর্ঘ দিনের সেই স্বপ্ন পুরন হতে দিলো না তারা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট এমন ঘৃণ্য ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নাজমুল আরেফিন এর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মান্নান বিপিএম বলেন, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত স্বাপেক্ষে সত্যতা যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password