আইভীর বিরুদ্ধে তৈমুরের লিখিত অভিযোগ

আইভীর বিরুদ্ধে তৈমুরের লিখিত অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। রোববার দুপুরে নাসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার বরাবর এ অভিযোগ দায়ের করেন।

এটিই এ নির্বাচনে আচরণবিধি ভঙ্গের প্রথম অভিযোগ। অভিযোগের অনুলিপি নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম মেয়র প্রার্থী আইভীসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়- নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন চলমান অবস্থায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে নগরের শেখ রাসেল পার্কে গত শুক্রবার বিজয় সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সেখানে সরকারদলীয় কেন্দ্রীয় নেতা তিনজন সংসদ সদস্য যথাক্রমে- মৃণাল কান্তি দাস, মির্জা আজম ও নজরুল ইসলাম বাবু দলীয় প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর জন্য মেয়র পদে ভোট প্রার্থনা করেন, এতে সমাবেশটি নির্বাচনী জনসভায় রূপান্তরিত হয়।

এটি নির্বাচনী আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন এবং নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিবন্ধক। তাই নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ রইল; যা কার্যকর করা নির্বাচন কর্মকর্তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। নির্বাচনী আচরণবিধির ২ এর ১৩ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে- সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন না।

কিন্তু গত শুক্রবারের সমাবেশে ৩ জন সংসদ সদস্য ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। তারা নির্বাচনে সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। এছাড়া আচরণবিধির ৭ এর ‘ক’ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে- প্রার্থীর পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল বা অন্য কোনো ব্যক্তি ও সংস্থা পথসভা ও ঘরোয়া সভা ব্যতীত কোনো জনসভা বা শোভাযাত্রা করতে পারবে না।

কিন্তু গত শুক্রবার নগরীর শেখ রাসেল পার্কে বিজয় সমাবেশের নামে অনুষ্ঠিত সমাবেশটি সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর নির্বাচনী সমাবেশে রূপান্তরিত হয়। এতে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আইনের উপরে উল্লেখিত দুটি ধারারই স্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে।

এদিকে গত শুক্রবার নগরীর দেওভোগে নাসিকের শেখ রাসেল পার্কে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশের জন্য সিটি করপোরেশন থেকে কোনো পূর্ব অনুমতি নেওয়া হয়নি। সিটি করপোরেশনের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল আমিন বলেন, অনুমতি ছাড়া সমাবেশ করার কথা নয়। তবে অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা খোঁজ নিয়ে জানতে হবে। আপনার অনুমতি ছাড়াই কীভাবে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো? এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

কারণ আইন অনুযায়ী মেয়রের পদত্যাগের পর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাই সেই দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সেক্ষেত্রে পার্কে সমাবেশের অনুমতি চাওয়া হলে আবেদন অবশ্যই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে যেত। আবেদন গেলে সে বিষয়ে অবশ্যই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অবগত থাকতেন। কিন্তু গত শুক্রবার সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হওয়ার দুই দিন পরেও এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।

অভিযোগের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন কর্মকর্তা মতিয়ূর রহমান বলেন, তিনি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কারণে আড়াইহাজার উপজেলায় অবস্থান করছেন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মাহফুজা আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, সমাবেশে উপস্থিত হয়ে সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। তাকে সমাবেশের আগের দিন ফোন করে সমাবেশে না যেতে বলা হলেও তিনি তা মানেননি। আমরা বিষয়টি দেখছি।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password