এবার দেশ ছাড়লেন মুরাদ হাসান

এবার দেশ ছাড়লেন মুরাদ হাসান

সদ্য মন্ত্রীত্ব হারানো তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান দেশ ত্যাগ করেছেন। রাত সোয়া একটার দিকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি বিমানে কানাডার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তিনি। কানাডার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। এমিরেটস এয়ারলাইনসে ইকে-৮৫৮৫ ফ্লাইটে রাত ১টা ২১ মিনিটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।

কানাডা যাওয়ার উদ্দেশে রাত ৯টা ১০ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে পৌঁছান সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। ডা. মুরাদ হাসানের দেশ ত্যাগের খবর নিশ্চিত করেছেন এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক।

এর আগে নারীদের নিয়ে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন মুরাদ হাসান। গত মঙ্গলবার রাতে মুরাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। মন্ত্রিত্ব যাওয়ার পর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মুরাদ তাঁর ভুলের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মাফ চেয়েছেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন ‘আমি যে ভুল করেছি তা আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে মাফ করে দিবেন।’ এদিকে মঙ্গলবার রাতে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ করা হয়। সেটি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে দায়ের করেছে থানা। এটি শাহবাগ থানা ঢাকার পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠায়।

পুলিশ কমিশনার এটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে পুলিশ সাইবার অপরাধ বিভাগে পাঠাবে।' বিকৃত যৌনাচার ও বিদ্বেষমূলক' বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের কটাক্ষ করে অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী থানায় অভিযোগ করেন। বিরোধী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যাকে নিয়ে মুরাদ হাসানের নারী বিদ্বেষী ও বর্ণবাদী মন্তব্য নিয়ে প্রবল সমালোচনা হয়।

এরপর চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে মুরাদ হাসানের অশ্লীল কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। মাহিয়া মাহিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে তুলে নিয়ে ধর্ষণেরও হুমকি দেন তিনি। এই দু'টি ঘটনা আওয়ামী লীগ এবং সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে। এসব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে মন্ত্রিসভা থেকে মুরাদের পদত্যাগের দাবি ওঠে।

এরপর সোমবার রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, মুরাদকে মঙ্গলবারের মধ্যে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০০৩ সালে আওয়ামী লীগের জামালপুর জেলা শাখার সদস্য, ২০১৪ সালে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং ২০১৫ সালে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন মুরাদ।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী, মেস্টা ও তিতপল্যা) আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুরাদ হাসান। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকে জামালপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

২০১৮ সালে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান মুরাদ হাসান। ২০১৯ সালের ১৯ মে তৎকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রথম রদবদল আনা হয়। এতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password