বায়োমেট্রিকের ব্যবহার চান পর্দাশীল নারীরা

বায়োমেট্রিকের ব্যবহার চান পর্দাশীল নারীরা

যেসব নারী পর্দা করেন, তাদের শনাক্তে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য নথিতে ছবির বদলে আঙুলের ছাপ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে রাজারবাগ দরবার শরিফের মহিলা আনজুমান। একইসঙ্গে সরকারি অফিসে পর্দানশীন নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বা শনাক্তকরণে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যবস্থা রাখারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন মহিলা আনজুমান, রাজারবাগ দরবারের সদস্য শারমিন ইয়াসমিন। তিনি বলেন, দেশে অসংখ্য পর্দানশীন নারী আছেন, যারা পবিত্র কুরআন-সুন্নাহ অনুসারে পরিপূর্ণ পর্দা করার চেষ্টা করেন।

তারা কোন গায়রে মাহরামকে (যেসব পুরুষের সঙ্গে বিয়ে বৈধ) চেহারা দেখান না। অথচ একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেতে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন নথির সময় চেহারা খুলে ছবি তুলতে হয়। গায়েরে মাহরাম পুরুষকে তার চেহারা দেখিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করতে হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পর্দানশীন হওয়ায় এসব নারীরা চেহারা খুলে ছবি তুলছেন না বা গায়রে মাহরাম পুরুষকে চেহারা দেখাচ্ছেন না। ফলে তারা জাতীয় পরিচয়পত্রসহ কোনো সরকারি কাগজ তৈরি করতে পারছেন না। এমনকি কোনো নাগরিক অধিকারও লাভ করতে পারছেন না।

পরিস্থিতি বেশি জটিল হয়ে উঠছে বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারীদের জন্য। কারণ সামান্য সহযোগিতার জন্য তারা নিকটস্থ মাহরাম পুরুষকে কাছে পাচ্ছেন না। এমন অবস্থায় সন্তান-সন্ততি নিয়ে জীবনধারণ তাদের জন্য বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। সংগঠনটির দাবি, পরিচয় শনাক্তকরণে আধুনিক যুগে বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতির নাম বায়োমেট্রিক পদ্ধতি।

প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় এতে শনাক্তকরণ প্রায় শতভাগ নির্ভুল। এ পদ্ধতিতে কখনোই দুই ব্যক্তির মধ্যে মিল পাওয়া যায় না। বয়স বা শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনেও এ পদ্ধতিতে কোনো তারতম্য ঘটে না। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজারবাগ দরবার শরীফের মহিলা আনজুমানের সদস্য সুমাইয়া আহমদ, মাশহুরা ফিরদাউসী প্রমুখ।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password