গুলিস্তানে রাস্তা আটকে রেখে হকারদের বিক্ষোভ

গুলিস্তানে রাস্তা আটকে রেখে হকারদের বিক্ষোভ

উচ্ছেদ অভিযান শুরু হতেই সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেছেন রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার হকাররা। এসময় তারা অভিযান বিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। রাস্তা আটকে বিক্ষোভ করেছে হকাররা। তাদের দাবি স্থায়ী পুনর্বাসন ছাড়া এই সিদ্ধান্ত তারা মানবে না বলেও জানান।

সড়ক ও ফুটপাতের ওপর অবৈধ দোকানপাট ও হকার উচ্ছেদের মাধ্যমে জনসাধারণের হাঁটার পথ দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে রাজধানীর গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট থেকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ হয়ে আহাদ পুলিশ বক্স পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।

গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিবেচনায় রাজধানীর গুলিস্তানকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এ এলাকার যানজট নিরসনে ও পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে অতীতের মতো এবারও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অভিযানে এলেই সড়ক থেকে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন হকাররা।

চলে গেলেই আবার সড়কে মালামাল নিয়ে বসে পড়েছেন। এ যেন অভিযান পরিচালনাকারীদের সঙ্গে হকারদের চোর-পুলিশ খেলা। দক্ষিণ সিটি বলছে, পদ্মা সেতু চালুর পর মেয়র হানিফ উড়ালসড়ক দিয়ে যান চলাচল বেড়েছে। সে কারণে গুলিস্তানে উড়ালসড়ক যেখানে নেমেছে, তার সামনের সড়কে যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ওই এলাকাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। গত রোববার ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাজারো হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি।

ওই দিন বিকেলেই আবারও ফুটপাত ও সড়কে মালামাল নিয়ে বসে পড়েন হকাররা। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজ আবার অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়। দুপুর ১২টার দিকে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গুলিস্তানে এলে হকাররা মালামাল নিয়ে সটকে পড়েন। তবে আজ সকাল থেকেই রাজধানীতে বৃষ্টি হওয়ায় বেলা দুইটা পর্যন্ত অভিযান শুরু হয়নি। তাই আবারও ফুটপাত ও সড়কে মালামাল নিয়ে বসে পড়ছেন হকাররা।

গুলিস্তান এলাকায় হকার উচ্ছেদে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দক্ষিণ সিটির সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনিরুজ্জামান। বেলা দুইটায় তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে তাঁরা ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে অবস্থান নিয়েছেন। বৃষ্টি কমলে রাত আটটা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করবেন। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা সোয়া ২টা পর্যন্ত গুলিস্তান এলাকার সড়ক ও ফুটপাত ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির মধ্যেই কয়েকটি জায়গায় হকাররা মালামাল নিয়ে বসছেন। মাথার ওপর পলিথিন টাঙিয়ে ক্রেতাদের ডাকাডাকি করছেন।

দুপুর ১২টার দিকে দক্ষিণ সিটির কর্মকর্তারা যখন গুলিস্তান এসে পৌঁছান, তখন হকাররা উচ্ছেদের প্রতিবাদে রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন। বৃষ্টি বাড়ার পর তাঁরা সড়ক থেকে সরে যান। এ সময় হকাররা তাঁদের পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ চালানোর প্রতিবাদ করেন। প্রায় ছয় বছর আগেও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গুলিস্তান এলাকায় হকার উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের সময় ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে গুলিস্তানে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে হকারদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ওই সময় সিটি করপোরেশনের পক্ষে ছাত্রলীগের দুই নেতা ফাঁকা গুলিও ছুড়েছিলেন। হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মচারী ও ছাত্রলীগ নেতাদের সংঘর্ষের পর সাঈদ খোকন ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান চলবে। এতে কেউ বাধা দিলে কঠোরভাবে তাদের দমন করা হবে। কিন্তু এর কয়েক দিন পরই পরিস্থিতি আবার আগের মতো হয়ে যায়। দক্ষিণ সিটি বলছে, এবার হকারদের পুনর্বাসনে গুলিস্তান এলাকায় ১০ তলা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ বিপণিবিতান নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার এ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন মেয়র ফজলে নূর তাপস। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর সিটির আওতাধীন এলাকার কোন সড়কে হকার বসতে পারবে আর কোন সড়কে বসতে পারবে না, তা নির্দিষ্ট করতে এই রেড জোনের ধারণা দেন। তিনি বলেছিলেন, অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রেড জোন হিসেবে বিবেচিত হবে। এগুলো লাল রঙে চিহ্নিত থাকবে। রোববার থেকে গুলিস্তানে আর হকার বসতে না দেওয়া হবে না।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সড়কগুলোকে লাল রঙের পাশাপাশি হলুদ ও সবুজ রঙে চিহ্নিত করবে। হলুদ রঙের সড়কে নির্ধারিত জায়গায় নির্ধারিত সময় হকাররা বসতে পারবেন। আর সবুজ রঙের সড়কের পাশে হকাররা প্রয়োজন অনুযায়ী বসতে পারবেন। এই আলোকে সড়কগুলোকে চিহ্নিত করতে গত রোববারই পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে দক্ষিণ সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা ও মুখপাত্র মো. আবু নাছের জানান। তিনি বলেন, এ কমিটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রণীত মহাপরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় রেখে রাস্তা ও হাঁটার পথ যানবাহন ও জন চলাচলের জন্য নির্বিঘ্ন রাখার লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনা করবে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password