দুর্নীতি-দুঃশাসনের প্রতিবাদকারী হানিফ বাংলাদেশীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত

দুর্নীতি-দুঃশাসনের প্রতিবাদকারী হানিফ বাংলাদেশীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত

দুর্নীতি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী হানিফ বাংলাদেশীকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেছে সাতকানিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আর এস মোহাম্মদ। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যাবে না, এ কথা বলেই হানিফ বাংলাদেশীর উপর হামলা করে ফেষ্টুন ব্যানার ছিড়ে ফেলেন এবং স্মারকলিপি কেড়ে নিয়ে যান আর এস মোহাম্মদ।

৫০ বছর ধরে চলমান দুর্নীতি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বদলে যাও বদলে দাও স্লোগান নিয়ে আজ ১২ই জুন রোজ মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় পটিয়া উপজেলায়, বেলা ১২ চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং দুপুর ২ টায় সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মর্কতার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি দিতে গেলে হামলার শিকার হন হানিফ বাংলাদেশী।

তিনি ৬৪ জেলা ও ৪৯৫ উপজেলা প্রদক্ষিণ করে, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিবেন। প্রতিদিন ৩ উপজেলা প্রদক্ষিণ করে আগামী ২০২৩ সালের মে মাসে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় গিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত করবেন। কর্মসূচি সম্পর্কে হানিফ বাংলাদেশী বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার সর্বক্ষেত্রে সামাজিক পারিবারিক মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় চলছে, ভোট গণতন্ত্র আইনের শাসনের উপর পূর্বের সরকারে যারা ছিলো সে সময়েও নগ্ন হস্তক্ষেপ হয়েছে, ঘুষ দুর্নীতি অর্থ পাচার হয়েছে, সামাজিক মানবিক পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় পূর্বেও ছিলো এখন আরো চরম আকার ধারণ করেছে।

আমাদের দেশের কৃষক উৎপাদনশীল, শ্রমিকরা পরিশ্রমী, ছাত্র যুবকেরা মেধাবী কিন্তু দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতি আমাদের সকল অর্জনকে ব্যাহত করছে। এত সম্ভাবনা থাকার পরেও দেশ যতটুকু এগিয়ে যাওয়ার কথা ততটুকু এগিয়ে যাচ্ছে না। দেশে অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু মানবিক মূল্যবোধের পতন হচ্ছে। আশা করি সম্ভাবনাময় এই অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে এবং চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ঘুষ, দুর্নীতি ও অর্থপাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা ও পাচারকৃত অর্থ ফেরত এনে যুবকদের মাঝে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সহজ শর্তে ঋণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, ভোট গণতন্ত্র আইনের শাসনের মান উন্নয়নে আরো যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি আত্মমর্যানশীল দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

হানিফ বাংলাদেশী আরো বলেন, আমি দেশের নানা অসঙ্গতি নিয়ে সব সময় প্রতিবাদ করে থাকি। এর আগেও ঢাকা শহর সহ দেশের জনবহুল স্থানে পাবলিক টয়লেট স্থাপনের আন্দোলন করেছি। ২০১৩—২০১৪ সালে দেশে যখন জ্বালাও—পোড়াও শুরু হয় তখন দুই নেতৃত্ব বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে ভোটাধিকারের দাবিতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পায়ে হেটে পদযাত্রা করেছি, ২০২০ সালে সর্বগ্রাসী দুর্নীতির বিরুদ্ধে ৬৪ জেলা প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক অফিসে স্মারকলিপি দিয়েছি। ২০২০ সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবিতে প্রতীকী লাশ নিয়ে পদযাত্রা করেছি।

২০২১ সালে দেশব্যাপী মার্চ ফর ডেমোক্রেসি গণতন্ত্রের জন্য গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছি। ২০২১ সালে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রনয়নের দাবিতে মাথায় ভোটের বাক্স নিয়ে ৬৪ জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। এখন ৫০ বছর ধরে চলমান দুর্নীতি—দুঃশাসের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে কর্মসূচি শুরু করেছি। আমার এই কর্মসূচিতে দেশবাসী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাংবাদিক ভাইদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।

মন্তব্যসমূহ (০)