কুষ্টিয়াতে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন একজন গৃহবধূ

কুষ্টিয়াতে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন একজন গৃহবধূ

কুষ্টিয়ার জেলা কুমারখালী উপজেলায় পান্টি গ্রামে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন মোছা: সাদিয়া নামের একজন গৃহবধূ।

মঙ্গলবার (০২ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে পাঁচটি শিশু ভূমিষ্ট হয়েছে। গর্ভধারণের ৬ মাসের মাথায় শিশু গুলো জন্ম নেবার কারণে তাদের ওজন হয়েছে অনেক কম । ৫ শিশুর মধ্যে ১টি ছেলেও ৪টি মেয়ে। প্রথমবার সন্তান ধারনের ৬ মাসের মাথায় জীবন্ত পাঁচ শিশু জন্ম দেয়া গৃহবধূ সাদিয়া (২৫) পান্টি ইউনিয়নের পান্টি গ্রামের কলেজপাড়া এলাকার মো সোহেল রানার স্ত্রী। শিশুর ছোট ফুফু রাবেয়া বলেন, সোমবার রাত ১০টায় হাসপাতালে আসি। আমরা খুবই খুশী। শিশুর মা সুস্থ রয়েছে। নরমালে বাচ্চা জন্ম দিয়েছে। ৬ মাস ১০ দিনের মাথায় বাচ্চা জন্ম দিয়েছে। শিশুর বাবা সোহেল রানা বলেন, ২০১৬ সালের ৩০ জুলাই কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের বহলবাড়িয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে সাদিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন সোহেল রানা। সোহেল রানা একই উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পান্টি গ্রামের কলেজপাড়া এলাকার সামাদ আলীর ছেলে। সোহেল ইমাম সাদিয়া প্রথমবারের মতো মা-বাবা হলেন।

বাবা সোহেল বলেন, খুবই ভালো লাগছে। অনুভূতি প্রকাশের ভাষা পাচ্ছিনা। মা সুস্থ রয়েছে। কিন্তু শিশুর ওজন কম হওয়ায় ঢাকায় নিয়ে যেতে বলছে চিকিৎসক। শিশুদের অক্সিজেন চলছে। তারা শিশু ওয়ার্ডের দুই নম্বর রুমের নবজাতক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। গাইনী ওয়ার্ডের ৭ নম্বর শয্যায় রয়েছেন। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল সুত্রে জানা যায় যে, গত সোমবার রাত ১০ টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রসূতিকে ভর্তি করা হয়।

পরের দিন সকাল ১০ ঘটিকা প্রসূতি মায়ের ব্যাথা অনুভবের ১৫ মিনিট পরই তিনি নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন। তবে মা সুস্থ থাকলেও শিশুরা রয়েছে অনেক ঝুঁকিতে। তারা আরো জানান ৬ মাসের মাথায় প্রসূতি মা বাচ্চা প্রসব করেছেন। একসঙ্গে পাঁচ সন্তান প্রসবে প্রসূতি মায়ের জীবনের অনেক ঝুঁকি ছিল। শিশুদের দেখতে হাসপাতালের রোগী ও রোগীর স্বজনরা ভিড় করছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক শাহীন আক্তার সুমন বলেন, বাচ্চাদের শারীরিক ভাবে সুস্থ করে তোলার জন্য চিকিৎসা চলছে। তবে বাচ্চাদের ওজন কম হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগে অথবা শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাচ্চাগুলোর ওজন ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম। তবে এই মুহূর্তে মা সুস্থ থাকলেও বাচ্চারা ঝুঁকিতে রয়েছে।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password