আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে রেজল্যুশন

মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যেন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়, তার জন্যে দেশটির কংগ্রেসে একটি রেজল্যুশন উত্থাপন করেছেন কংগ্রেসওম্যান গ্রেস ম্যাং। নিউ ইয়র্কের ডিস্ট্রিক্ট ৬ থেকে নির্বাচিত ডেমোক্রেট এই আইনপ্রণেতা বৃহস্পতিবার ইউএস কংগ্রেসে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব তুলে ধরেন।

জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা বা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবাহী ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। জাতিসংঘও দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত নিলেও পৃথিবীর অনেক দেশে এখনো দিনটি সেইভাবে পালিত হয় না।

বাংলাদেশি অধ্যুষিত নিউ ইয়র্কের কুইন্স থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসওম্যান গ্রেস ম্যাং তার রেজল্যুশনের বিষয়ে পরে একটি ভিডিও বিবৃতিতে বলেছেন, তার লক্ষ্য হচ্ছে আমেরিকার মানুষ যেন দিনটিকে ঠিকভাবে বুঝতে পারে এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালনও করে। গত চারটি কংগ্রেসে তিনি এমন রেজল্যুশন তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, 'আরো বেশি আমেরিকানের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং এই দিনটি পালনের তাৎপর্য সম্পর্কে জানা উচিত। আমার রেজল্যুশনটি সেই সচেতনতা বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করছি'। তিনি ১৯৫২ সালে মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করেন। তিনি তার বিবৃতিতে বলেন, 'ইউনেস্কো সারা পৃথিবীর মানুষের ভাষার অধিকার রক্ষার জন্যে ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে বাংলাদেশের মানুষের কাছে এই দিনটির মর্যাদা একটু ভিন্ন।'

তিনি উল্লেখ করেন বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সেদিন ছাত্ররা পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন করে গড়ে তুলেছিলেন। অনেকে জীবনও দিয়েছেন।

গ্রেস ম্যাং উল্লেখ করেন, পরিচর্যার অভাবে পৃথিবী থেকে প্রায় দুই হাজার ভাষা বিলুপ্ত হওয়ার পথে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারির তথ্য তুলে ধরেন তিনি বলেন, 'আমেরিকার সৌন্দর্যই হচ্ছে এর বৈচিত্র্য। এখানে ৩৮১টি ভাষায় মানুষ কথা বলে। ফলে আমেরিকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব আরো বেশি।'

ভবিষ্যতেও তিনি এমন প্রচেষ্টা আরো চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এই কাজে অগ্রণী ভূমিকা রাখার জন্যে তিনি মুক্তধারা ফাউন্ডেশনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। এর আগে এই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগেই ২০১৫ সালে নিউ ইয়র্ক স্টেটের আইনসভা প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের জন্যে একটি রেজল্যুশন পাস করেছিল। এবারো স্টেট সিনেটর জেসিকা রামোস এর উদ্যোগে যা নবায়ন করা হয়েছে।

মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিৎ সাহা বিডিটাইপকে জানিয়েছেন, গ্রেস ম্যাং-এর রেজল্যুশন উত্থাপনের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা ভাষা ও আমাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আরো একটি ধাপ এগিয়ে গেল। তিনি বলেন, 'আমরা ১৯৯২ সাল থেকে জাতিসংঘের সামনে একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করে আসছি। এ বছর সেই কর্মসূচির ৩০ বছর পূর্ণ হচ্ছে।

২০১৬ সালে সেখানে মাসব্যাপী ভাস্কর্য প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছিলাম। ওই বছরই ইউএস পোস্টাল সার্ভিস আমাদের উদ্যোগেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করে। নিউ ইয়র্কসহ আমেরিকার আইন সভায় এ সংক্রান্ত রেজল্যুশন পাশের ক্ষেত্রেও আমাদের ধারাবাহিক উদ্যোগ ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে'।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন