শুধু আইন করে ধর্ষণ কমবে না, দরকার সামাজিক আন্দোলন

বাংলাদেশের কি ধর্ষণের ঘটনা কমে গেছে? না কি ধর্ষণের খবর পরিবেশন কমেছে? কিংবা ধর্ষণ নিয়ে কথা বলা আমরা কমিয়েছি?আমরা অবশ্য এমনিতেই সব ধর্ষণ নিয়ে কথা বলি না। কোনো কোনো ধর্ষণ নিয়ে ‘গেলো গেলো’ বলে এতোটাই প্রতিক্রিয়া দেখাই যে- পৃথিবীটাই উচ্ছন্নে গেলো বলে বোধ হয়। আবার কোনো কোনো ধর্ষণ নিয়ে একেবারেই কথা বলা পছন্দ করি না। আমরা আসলে ধর্ষণের বিরোধীতা করি না, কারা ঘটনাটা ঘটালো তাদের বিরোধীতা করি।

আমি সব সময়ই বলি, ধর্ষণ বন্ধে সামাজিক আন্দোলন দরকার। সেটি কেবল নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে যাওয়ার মধ্যেই সীমিত না। এর বিরুদ্ধে জনমত গঠন, মানুষকে সচেতন করার জন্য নানা রকম পদক্ষেপ হতে পারে। তবে সামাজিক আন্দোলন আপনি করবেন কী না তার পূর্বশর্ত হচ্ছে- অপরাধ এবং অপরাধী দুটোরই বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া। ‘চুজ অ্যান্ড পিক’ করে সামাজিক সচেতনতা তৈরির আন্দোলন হবে না।

পশ্চিমের অধিকাংশ দেশেই রেপ বা ধর্ষণ নিয়ে আলাদা কোনো আইন নেই। আছে ‘সেক্সুয়্যাল অ্যাসল্ট’ এর আইন। শাস্তি পাওয়ার জন্য অঙ্গভঙ্গি করে বা মুখের কথায় অ্যাসল্ট করলেও সেই আইনের আওতায় পরতে হয়। রেপ এর সাথে ‘পেনিট্রেশনে’র সম্পর্ক আছে। ‘সেক্সুয়্যাল অ্যাসল্ট’ এর আইনে শাস্তি পাওয়ার জন্য ‘পেনিট্রেশন’ পর্যন্ত যাওয়ার কোনো দরকার নাই, অঙ্গভঙ্গি বা ‍মুখের কথায় হয়রানি করলে্ও আপনাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

কেবল ধর্ষণ নয়- ‘সেক্সুয়্যাল অ্যাসল্ট’ এর বিরুদ্ধেই আসলে আমাদের কথা বলা দরকার। দেখা দরকার- আমি যা বলছি বা লিখছি সেটি কাউকে ‘অ্যাসল্ট’ করছে কী না।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন