বান্ধবীর নিমন্ত্রণে দেখা করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার

প্রেমের ফাঁদে পড়ে বান্ধবীর নিমন্ত্রণে দেখা করতে যান বাকের আলী (ছদ্ম নাম)। কথা অনুযায়ী রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যানের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন সিটি হোটেলের সামনে দেখা হয় কথিত প্রেমিকার সাথে। 

সেখানে বান্ধবীর সঙ্গে আরও ছয় যুবককে দেখতে পান তিনি। পরে, প্রেমিককে কৌশলে নিয়ে যাওয়া হয় বাড়িতে। তখনও বাকের জানতেন না কি ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে তার জন্য।সেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে ছিল বিশেষ টিম। নিয়ে যাওয়া মাত্রই অন্ধকার কক্ষে তাকে আটকে ফেলা হয়। কিছুক্ষণ পর টর্চার সেলে শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। এক সময় অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। জ্ঞান ফেরার পর তার কাছ থেকে দাবি করা হয় ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ। ছিনিয়ে নেওয়া হয় সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও দুটি ডেবিট কার্ড। আত্মীয়স্বজনকে ফোন দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আদায় করা হয় লাখ খানেক টাকা। 

ঢাকা উদ্যানের একটি ফ্ল্যাট টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করতো চক্রটি। গেল ২ মাসে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ জন ভুক্তভোগীকে এখানে এনে অমানবিক নির্যাতনের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চক্রের দুজনকে শনাক্ত করা হয়। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া কার্ড দিয়ে দুটি ব্যাংকের বুথে গিয়ে টাকা তুলতেও দেখা যায় তাদের। দুজনকে গ্রেফতারের পর তাদের দেওয়া তথ্যে সেই কথিত বান্ধবীসহ আরও তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে, ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি অপহরণ চক্রের সন্ধান পান তারা। 

পুলিশ বলছে, এ চক্রে একাধিক নারী সদস্য থাকে। যাদের দিয়ে মূলত ফাঁদ পাতা হয়। দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করা হয় চক্রের নারী সদস্যদের। উত্তরা, মিরপুর, মুগদাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে একই কায়দায় অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে অপহরণ করার তথ্য রয়েছে পুলিশের কাছে।
 

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন