খাবারের অপচয় হ্রাসে একসাথে ফুডপ্যান্ডা ও বিদ্যানন্দ

প্রতিবছর বিশ্বে উৎপাদিত সকল খাদ্যের আনুমানিক এক-তৃতীয়াংশের অপচয় ঘটে। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর এই খাদ্যের পরিমাণ প্রায় ১.৩ বিলিয়ন টন। শুধুমাত্র বাংলাদেশেই, কঠিন বর্জ্যের একটা বড় অংশ অপচয় হওয়া খাদ্য বর্জ্য। খাবারের অপচয় সমাজের সকল ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে: বিশ্বজুড়ে সকলের খাদ্য নিরাপত্তার ওপর এর স্পষ্ট প্রভাব রয়েছে- যা অর্থনৈতিক বিকাশকে বাঁধাগ্রস্ত করে এবং বিদ্যমান জলবায়ু সঙ্কটকে তীব্র করে তোলে। এমন পটভূমিতে, খাদ্যবর্জ্য হ্রাসের প্রচেষ্টায় বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সাথে অংশীদারিত্ব করেছে ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশ।

এই যৌথ উদ্যোগের অংশ হিসেবে, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা ফুডপ্যান্ডা প্ল্যাটফর্মে বাতিল হওয়া অর্ডারের খাবার সংগ্রহ করছেন। এসব খাবার নির্দিষ্ট রাইডার হাব থেকে সংগ্রহ করে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। যার ফলে, বাতিল হওয়া অর্ডারের খাবারের আর অপচয় হবে না। খাদ্য নিরাপত্তা প্রচার ও খাদ্য অপচয় হ্রাস ছাড়াও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন এবং ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশ উভয় প্রতিষ্ঠানই সংগৃহীত সকল খাবার, সুরক্ষা মান এবং সঠিক প্যাকেজিংয়ের কথা বিবেচনা করে পুনরায় বিতরণে অঙ্গীকারবদ্ধ।

এছাড়াও, সারাদিন রাইডারদের দ্বারা নির্দিষ্ট হাবে ফিরিয়ে আনা খাবারগুলো যাতে খাওয়ার জন্য নিরাপদ থাকে এটাও নিশ্চিত করে ফুডপ্যান্ডা। অন্যদিকে, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা নিশ্চিত করেন, যেনো খাবারগুলো সময়মত তুলে নেয়া হয় এবং সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে বিতরণ করা হয়। এ বিষয়ে ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা আম্বারিন রেজা বলেন, ‘খাবারের অপচয় রোধে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন আমাদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে বলে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এই যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা শুধু খাবারের অপচয় কমাতেই সক্ষম হবো না, পাশাপাশি সময়ের
সাথে আমরা দুর্দশাগ্রস্ত মানুষদের খাবার দিয়ে সহায়তা করতে পারবো এবং টেকসই ভবিষ্যত অর্জনে সক্ষম হবো। আমাদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগটি আমাদের কমিউনিটিতে এবং সর্বোপরি দেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান কিশোর কুমার দাস বলেন, ‘এক টাকায় আহার কর্মসূচির মাধ্যমে কয়েক লাখ মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেয়ার পরেও খাবার অপচয়ের বিরুদ্ধে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে না পেরে আমরা খাদ্য বিতরণ নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলাম না। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে খাবার সংগ্রহ করে সেগুলো ভাসমান মানুষদের কাছে পৌঁছে দেয়া নিয়ে গত তিন বছরের আমাদের লালিত স্বপ্ন ফুডপ্যান্ডার সাথে বড় আকারে এখন যাত্রা শুরু করেছে। এই যাত্রায় বিদ্যানন্দের সাথে যোগ দেয়ার জন্য ফুডপ্যান্ডাকে ধন্যবাদ।’

অনলাইন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে খাবার ও গ্রোসারি সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সুবিধামতো, দ্রুত এবং টেকসই উপায়ে পৌঁছে দিতে নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশ। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যা দেশজুড়ে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষদের খাবারের যোগান দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশ এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের মধ্যে অংশীদারিত্ব উভয় প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে একসাথে করেছে।
এই উদ্যোগটি বর্তমানে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে কার্যকর থাকলেও খাবার অপচয় রোধে শীঘ্রই অন্য বড় শহরগুলোতে এর কার্যক্রম শুরু হবে।

ফুডপ্যান্ডা সম্পর্কে: ফুডপ্যান্ডা এশিয়া প্যাসিফিকের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম। সুবিধামতো ও দ্রুততম সময়ে
গ্রাহকদের কাছে খাবার এবং নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসহ অন্যান্য জিনিস পৌঁছে দিতে নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে ফুডপ্যান্ডা। অভিনব প্রযুক্তি ও সুদক্ষ পরিচালনার সমন্বয় এবং রিটেইল পার্টনারদের শক্তিশালী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এ অঞ্চলের কুইক-কমার্সে (কিউ-কমার্স) নেতৃত্ব দিচ্ছে ফুডপ্যান্ডা। এর খাবার ডেলিভারি দেয়ার লক্ষাধিক অপশন ছাড়াও অন-ডিমান্ড পণ্য ডেলিভারি সুবিধা প্রদানে রয়েছে প্যান্ডামার্ট ক্লাউড স্টোর। সিঙ্গাপুর, হংকং, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, তাইওয়ান, ফিলিপাইন, বাংলাদেশ,
লাওস, কম্বোডিয়া, মায়ানমার এবং জাপান- এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ১২টি বাজারের তিনশো’রও বেশি শহরে ফুডপ্যান্ডার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফুড ডেলিভারি ইন্ডাস্ট্রিতে বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ডেলিভারি হিরো’র একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ফুডপ্যান্ডা।

বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: www.foodpanda.com.bd

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন