৫ দফা বন্যায় দিশেহারা কৃষকরা

কুড়িগ্রামে চলতি বন্যাসহ ৫ দফা বন্যায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এখানকার কৃষকরা। দফায় দফায় বন্যায় কৃষকদের আশা নিরাশায় রূপ নিয়েছে। পূর্বে পরপর তিন দফা বন্যায় এমনিতে প্রথমবার লাগানো রোপা আমনের অনেকটা নিমজ্জিত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। পরে ৫ম দফা বন্যায় আমনের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় এখন এসব কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষি নির্ভরশীল পরিবারগুলো ধারদেনা ও ঋণ করে ৪র্থ দফা বন্যার পর আমন আবাদ করে ঘুড়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ৫ম দফা বন্যার ফলে ধরলা নদী তীরবর্তী এলাকার ৪ উপজেলার কৃষকের এখন মাথায় হাত। নিজেদের খাবার কিভাবে জুটবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। 

এছাড়াও আমন ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা নিজে এবং তাদের গবাদি পশুও নিয়ে এখন তারা রয়েছেন মারাত্মক কষ্টে। এ অবস্থায় সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি উঠেছে। এদিকে জেলা কৃষি বিভাগ মনে করে, বন্যার কারনে জমিতে পলি পড়ায় এবার আমনের বাম্পার ফলন হবে। একারনে কৃষকদের ঘাটতি পুষিয়ে নেয়াও সম্ভবপর হবে। এছাড়াও সরকারি দপ্তরে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি পরিত্যক্ত জমিতে বিকল্প ফসল আবাদের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। 

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বছর প্রথম দফা বন্যায় তেমন ক্ষতি না হলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় জেলায় ১৭ হাজার ৫৫৬ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়। পানি নেমে যাওয়ার পর ১১ হাজার ৬৬২ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এরমধ্যে আমন বীজতলা ১ হাজার ৪০৯ হেক্টর, আউশ ৫ হাজার ২১৭ হেক্টর, সবজি ৯৫৩ হেক্টর, পাট ৯ হাজার ২৩৫ হেক্টর, তিল ৩০৫ হেক্টর, মরিচ ২০৫ হেক্টর ও চিনা ১৪০ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্থ হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা দুই মিলে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৮ জন কৃষকের মোট ১৪০কোটি ৬৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। তৃতীয় দফা বন্যা শেষে জেলার ২৭ হাজার ৭৬১ জন কৃষককে সবজি বীজ, ১০৫টি কমিউনিটি বীজতলা ও শতাধিক ভাসমান বীজতলা এবং ১১২টি ট্রে বীজতলা তৈরি করে কৃষকদের বিনামূল্যে আমন চারা বিতরণ করা হয়। কৃষকরা নতুন করে আমন ধান চাষ শুরু করার দু’সপ্তাহের মধ্যে আবার বন্যা হলে দণ্ডায়মান আমনের আবাদ, মাসকালাই, চিনা, বাদাম ও শাকসবজি সম্পূর্ণরুপে পানিতে তলিয়ে যায়। 

কৃষি বিভাগ জানায়, চতুর্থ ও পঞ্চম দফা বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা না হলেও সেপ্টেম্বরের ২ দফা বন্যায় ১৯ হাজার ২৩ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়। তম্মধ্যে সদ্য লাগানো আমনের আবাদই রয়েছে ১৮ হাজার ৮২০ হেক্টর। সবচেয়ে বেশি আমনের ক্ষতি হয় নাগেশ্বরীতে ৬ হাজার ৫৫ হেক্টর জমির ফসল যার এখনও অনেক পানিতে। কৃষি বিভাগ বলছে, এবার আমনের ক্ষতি বেশি হয়েছে। এ অবস্থায় পুঁজি হারানোর আশঙ্কায় থাকা কৃষকরা সরকারী সহায়তা না পেলে আগামী মৌসুমে কোন আবাদই করতে পারবেন না বলে জানান।

উলিপুরের বজরা ইউনিয়নের চর বজরা গ্রামের কৃষক কাসেম জানান, বন্যা ও নদী ভাঙনে ৭ একর জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। ধারদেনা করে ৩৫ শতক জমিতে আমন আবাদ করেছি। বন্যায় সেগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কি করব জানিনা। জেলা কৃষি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক শামসুদ্দিন মিয়া জানান, ৫ম দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য কোন প্রকার প্রণোদনা পাওয়া যায়নি। তবে কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। 

 

মন্তব্যসমূহ (০)


লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন