আর কত চিৎকার করলে শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে

আর কতদিন মে দিবস সফল হউক,সফল হউক, বলে চিৎকার করলে শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে? আজ ১লা মে ২০২১ শনিবার দুপুরে মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রশ্ন রাখেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান মনির।

মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “১লা মে, মহান মে দিবস /আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসাবে পালন হয়ে আসছে। মে দিবস আসলেই বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিক সংগঠন গুলো, মে দিবসের শুভেচ্ছা বাণী, সফলতা কামনা করে ব্যানার,ফেস্টুন, আর শিকাগোর সেই গল্প লিখে ফেসবুকে পোস্ট আর পত্রিকায় লেখার ছড়াছড়ি হতে দেখা যায়। সেই সাথে শ্রমিক সংগঠন গুলো বিশাল, মিটিং মিছিল, সমাবেশের মাধ্যমে শোডাউন করে নিজেদের শক্তির জানান দেয়।

যদিও করোনার কারণে হয়তো এবার তা কেউ করতে পারছে না। প্রতি বছর মে দিবস আসে-যায় কিন্তু বাংলাদেশের শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার কতটুকু প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে সে দিকে কারো নজর নেই। শ্রমিক সংগঠনগুলো আজ রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও ভোটের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালনে ব্যস্ত। যেমন রেলওয়েতে অনেকগুলো শ্রমিক সংগঠন রয়েছে কিন্তু তারা কি পারছে শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে? পারছে না। কারণ এই সংগঠন গুলো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অন্তর্ভুক্ত।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি আরো বলেন, “রেলওয়েতে জনবল নিয়োগে দূর্নীতি, ক্রয়ে দূর্নীতি, উন্নয়ন মুলক কাজে দূর্নীতি, বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠানোর ক্ষেত্রে দূর্নীতি, ভূমি লিজে দূর্নীতি, টেন্ডারে অনিয়ম, এমনকি পদন্নোতির ক্ষেত্রেও দূর্নীতি, আবার দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পুরস্কার হিসেবে দেয়া হয় পদন্নোতি। অথচ যাদের কঠোর পরিশ্রমে রেলপথ সচল থাকে সেই সকল, রেলওয়ের মাঠ পর্যায়ের শ্রমিক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন থেকে তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসলেও তাদের ন্যায় সংগত দাবি পূরণ হচ্ছে না।

আবার কোন কর্মকর্তার অন্যায় কর্মকান্ডের প্রতিবাদ যদি কোন শ্রমিক-কর্মচারী করে, তাহলে সুযোগ পেলেই তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে, সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্ত করে হয়রানি ও মানষিক নির্যাতন, নিপীড়ন করছে  দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। আর এই দূর্নীতিবাজদের সহযোগিতা করছে, শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গড়ে উঠা রেলওয়ের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এর দূর্নীতিবাজ নেতারা।”

তিনি আরো বলেন, “সংশোধিত নিয়োগ বিধি ২০২০ সংশোধনের মাধ্যমে রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী ও পোষ্যদের অধিকার গলাটিপে হত্যা করা হলেও এর প্রতিবাদে রেলওয়ে শ্রমিক সংগঠন গুলোর শক্তিশালী ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। আবার মে দিবসে বিশাল শোডাউন করতে দেখা যায়। ৮ ঘন্টা কাজের সময় নির্ধারনের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রামে শ্রমিকরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দাবি আদায় করেছিল।

তাদের স্মরণেই  আজ সারা বিশ্বে মহান মে পালিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিক-কর্মচারীদের মত রেলওয়ের মাঠ পর্যায়ের শ্রমিক-কর্মচারীরা আজও তাদের ন্যায অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের শ্রমিক সংগঠন গুলো যতদিন রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি ও ভোটের রাজনীতিতে ব্যাবহার হবে, ততদিন সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। বর্তমানে বাংলাদেশের মে দিবস মিটিং - মিছিল আর শোডাউন এর মে দিবসে পরিণত হয়েছে। আসুন সবাই এখান থেকে বেড়িয়ে এসে, শ্রমিক-কর্মচারীদের সামগ্রিক সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক দল প্রভাবমুক্ত ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলি।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন