বরিশাল

শালিস বৈঠকে প্রতিপক্ষের হামলা, চার সহোদরসহ আহত ১০

বরিশালের উজিরপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে শালিস বৈঠকে হামলা চালিয়ে চার সহোদরকে পিটিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষ। অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় ওই চার সহোদর বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এছাড়া প্রতিপক্ষের হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে শালিসকারীসহ দু’পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গত শনিবার বিকেলে উপজেলার শোলক ইউনিয়নের আটক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ পরস্পরকে দায়ী করে উজিরপুর মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

প্রিয় পাঠক আমাদের পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শোলক ইউনিয়নের আটক গ্রামের একই বাড়ির মন্টু হাওলাদার গং ও মহিলা লীগ নেত্রী লাকী ভূইয়া গংদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এ ঘটনার নিষ্পত্তির জন্য শনিবার বিকেল ৫টার দিকে ওই এলাকায় এসডিএফের একটি গ্রাম সমিতির মধ্যে বিচার শালিসে বসে দুই পরিবারের লোকজন ও আত্মিয় স্বজন।

এ সময় উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে উপস্থিত শোলক ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহজাহান হাওলাদার (পান শাজাহানের), আওয়ামীগ নেতা মোফাজ্জেল কাজী, মিজান তালুকদার, শহিদুল তালুকদার, সেকেন্দার তালুকদার, মাসুম হাওলাদারসহ স্থানীয় আরো অনেক বিচারক।

শালিস চলা অবস্থায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বিচারকদের অবমাননা করে মহিলা লীগ নেত্রী লাকী ভূইয়ার ছেলে আশিক ভূইয়া ২০/৩০ জনের একদল ভাড়াটিয়া স্বসস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিয়ে প্রতিপক্ষ মন্টু গংদের উপর অতর্কিত হামলা করে।

সময় গুরুতর আহত হন প্রতিপক্ষ মন্টু হাওলাদার (৪৫) ও তার সহোদর মিন্টু হাওলাদার (৩৮), সাহেদুল হাওলাদার (৩০), হাফিজুল হাওলাদার (২৮)। তারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রতিপক্ষের হামলা প্রতিরোধের সময় উভয় পক্ষ ও শালিসগণের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হলে লাকী ভূইয়ার পক্ষেরও চারজন আহত হয়েছেন। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া শালিসকারীসহ আরো দুইজন আহত হন। তাদেরকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহত মন্টুর সহোদর শহিদুল অভিযোগ করে বলেন, তাদের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে মন্টু একাই গ্রামের বাড়ীতে থাকেন এবং অন্য সবাই ঢাকায় চাকুরি করেন। মৃত বাবার নামে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করতে বৃহস্পতিবার তারা সবাই গ্রামের বাড়ীতে এসেছেন। তাদের ও একই বাড়ীর লাকী ভূইয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো। সেই বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার জন্যই উভয় পক্ষের সম্মতিতে শনিবার বিকালে ওই শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।

কিন্তু শালিসের মধ্যে বিচারকগন প্রতিপক্ষের কথা শুনে তাদের পক্ষের কথা শুনতেছিলো। এমন সময় পূর্ব পরিকল্পিভাবে প্রতিপক্ষ লাকী ভ‚ইয়ার ছেলে আশিক একদল ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে শালিস বৈঠকে হামলা চালিয়ে তার চার সহোদরসহ কয়েকজন শালিসগনকে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় আহত মন্টুর স্ত্রী পারভীন বেগম বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ লাকী ভ‚ইয়াসহ ১১জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামাসহ মোট ৩৩ জনকে আসামী করে উজিরপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার ও প্রতিপক্ষকে দায়ী করে শোলক ইউনিয়ন মহিলালীগের সভাপতি লাকী ভূইয়া জানান, প্রতিপক্ষরা আমাদের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ ব্যাপারে ওই শালিসের বিচারক শোলক ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহজাহান হাওলাদার (পান শাজাহানের), আওয়ামীগ নেতা মোফাজ্জেল কাজী, মিজান তালুকদার, শহিদুল তালুকদার, সেকেন্দার তালুকদারসহ অন্যান্যরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, শালিস বিচার চলাকালীন অবস্থায় হঠাৎ করে কিছু বহিরাগত লোকজন হামলা চালায়। এতে শালিসগনসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। তবে মন্টু গংদের পক্ষের লোকজন গুরুত্বরভাবে আহত হয়েছে।

তারা আরও জানিয়েছেন, বহিরাগত ওই সকল লোকজনকে লাকী ভুইয়ার ছেলে আশিক তার বন্ধু বাটাজোর এলাকার আফ্রিদির মাধ্যমে এনেছিল।

এ ব্যাপারে উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পাল বলেন, খবর পাওয়ার পরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরস্পরকে দায়ী করে উভয়পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

প্রিয় পাঠক আপনার মতামত জানান

এ বিভাগের আরো খবর

Close
Close